নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অতীতে একাধিকবার ঝড়ের সময় ল্যাম্পপোস্ট বা ট্রাফিক সিগন্যালের পোস্ট ভেঙে বিপত্তি হয়েছে। এই পোস্টগুলিতে অনেক সময় বিজ্ঞাপনের কাঠামো এবং সেই কাঠামোয় বড় হোর্ডিং লাগানো থাকে। অনেক ক্ষেত্রে পোস্টগুলি ওই কাঠামো ও হোর্ডিংয়ের ভার ধরে রাখতে পারে না। ঝড়বৃষ্টির সময় তা ভেঙে পড়লে পথচারীর প্রাণহানির আশঙ্কা পর্যন্ত থাকে। এই কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সাধারণভাবে ল্যাম্পপোস্টে কোনও বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং থাকবে না। একান্ত প্রয়োজন পড়লে নিরাপত্তাজনিত নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করে, কলকাতা পুরসভার মেয়র পরিষদের অনুমোদন নিয়ে তবেই হোর্ডিং লাগানো যাবে। আগামী সপ্তাহখানেকের মধ্যেই পুরসভা নতুন বিজ্ঞাপন নীতি আনতে চলেছে। সেখানেই এই নয়া নিয়মের উল্লেখ থাকবে বলে জানা গিয়েছে। সেই সঙ্গে ঠিক হয়েছে, শহরের তিনটি রাস্তায় বেসরকারি কোনও বিজ্ঞাপনী কাঠামো থাকবে না। থাকবে কেবল সরকারি কাঠামো। সূত্রের খবর, তিনটি রাস্তা হল পার্ক স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট এবং থিয়েটার রোড। সেই সঙ্গে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে জোর, হোর্ডিং বা ব্যানারের ক্ষেত্রে পুনর্নবীকরণ যোগ্য উপাদান ব্যবহার করলে বিশেষ ছাড় সহ একাধিক নতুন নিয়ম যুক্ত হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।
পুরসভা সূত্রে খবর, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে গেজেট নোটিফিকেশন জারি হবে। গত সাড়ে তিন বছর ধরে নয়া বিজ্ঞাপন নীতি চালু করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুরসভা। অবশেষে তা সম্ভব হচ্ছে বলে খবর। পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগ সূত্রে খবর, বর্তমানে পুর-আওতাভুক্ত স্ট্রিট হোর্ডিংয়ের সংখ্যা ৪১০। সেগুলি ধীরে ধীরে মনোপোলে রূপান্তরিত করা হবে। এর মধ্যে অন্তত ৪০ শতাংশ ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক বিজ্ঞাপনের জন্য বরাদ্দ থাকবে। এর বাইরেও শহরে ২১টি ডিজিটাল মনোপোল (বিজ্ঞাপন লাগানোর জায়গা) ও ১২৬টি বাসযাত্রী প্রতীক্ষালয়ে থাকা বিজ্ঞাপনের কাঠামো পুরসভার হাতে রয়েছে। এই অবস্থায় শহর বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়লে পুরসভাও নিজস্ব হোর্ডিং কমাবে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজেও যত্রতত্র বিজ্ঞাপনের দৃশ্যদূষণ কমাতে চাইছেন। সেই কারণেই আপাতত তিনটি রাস্তাকে বেসরকারি বিজ্ঞাপনী কাঠামো মুক্ত করা হবে। নয়া নীতিতে থাকছে, শহরের সমস্ত বিজ্ঞাপনী হোর্ডিংয়ের জায়গা বা কাঠামো পুরসভার আওতায় আসবে। রাজ্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা কিংবা পর্ষদ—কেউ আর নিজেদের ইচ্ছামতো বিজ্ঞাপনের জায়গা দিতে পারবে না। সমস্ত বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে পুরসভার অনুমতি লাগবে। এখনও পর্যন্ত অন্যান্য সংস্থার হাতে থাকা কাঠামোগুলি পুরসভাকে হস্তান্তর করে দিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক বা সংস্থার বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও পুরসভার সঙ্গে ৫০ শতাংশ রাজস্ব শেয়ার করতে হবে। নয়া নীতিতে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিজ্ঞাপনী হোর্ডিংকে উৎসাহ দেওয়া হবে। পুনর্নবীকরণযোগ্য উপাদান ব্যবহারে মিলবে বিশেষ ছাড়। আরও ঠিক হয়েছে, শহরের কোনও ব্রিজ বা উড়ালপুল, ফুট ওভারব্রিজের বিমে হোর্ডিং লাগানো যাবে না। সমস্ত স্ট্রিট হোর্ডিং ধীরে ধীরে মনোপোলে রূপান্তরিত করা হবে।