রাজীব বর্মন, দেওয়ানহাট: রাজ্যের মেধা তালিকায় বড়ভিটা বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান পাওয়া তিন ছাত্রীকে মানপত্র দিয়ে সংবর্ধিত করল পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন পর্ষদ। রবিবার কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেজিও হলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের পুরস্কৃত করা হয়।
দিনহাটার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে রাজ্যের মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়ে সংবর্ধিত হওয়ায় খুশির হাওয়া মাতালহাটের ত্রিদেবের বাজারের বড়ভিটা গ্রামে। ২০২৪ সালের পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন পর্ষদ পরিচালিত চতুর্থ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় রাজ্যের মেধা তালিকায় স্থান পায় বড়ভিটা বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠের ১৪ পড়ুয়া। তাদের মধ্যে যুগ্মভাবে দ্বিতীয় হয়েছে দুই ছাত্রী। তারা হল প্রেরণা সেন ও ঈশিকা বর্মন। ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা তাদের প্রাপ্ত নম্বর ৩৯১। ওই স্কুলেরই আরএক ছাত্রী অঙ্কিতা বর্মন রাজ্যে তৃতীয় হয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৩৮৮। সেসঙ্গে একই স্কুলের আরও ১১ জন স্থান পেয়েছে মেধা তালিকায়। স্বভাবতই প্রত্যন্ত গ্রামের একটি স্কুলের এমন নজরকাড়া সাফল্যে খুশির হাওয়া গোটা স্কুল সহ তাদের পাড়ায়।
শিশুদের জন্য উপযুক্ত আধুনিক শিক্ষার পরিকাঠামো গড়ে গ্রামের পড়ুয়াদের শক্ত শিক্ষার ভিত তৈরির নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মাতালহাটের বড়ভিটা বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ। প্রাক্প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই বেসরকারি স্কুলটির নাম গ্রামের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা মহকুমায়। স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য রয়েছে স্মার্ট ক্লাসরুমের ব্যবস্থা। এই স্কুলে রয়েছে হস্টেলের ব্যবস্থাও।
স্কুলের প্রিন্সিপাল সোনামণি রায় বর্মন, আমাদের স্কুলটি গ্রামীণ এলাকায় হলেও পড়াশোনার দিক থেকে শহরের স্কুলগুলিকে টেক্কা দেয়। স্কুলে শিশুদের সবদিক বিকশিত করার লক্ষ্যে পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, গান, অঙ্কন, ক্যারাটে, কম্পিউটার, আবৃত্তি, শারীরশিক্ষা, কর্মশিক্ষা সহ হিন্দি ও ইংরেজির স্পোকেন ক্লাসের ব্যবস্থা রয়েছে। পড়ুয়াদের এমন সাফল্য আমরা গর্বিত।
স্কুলের ডিরেক্টর বিষ্ণু বর্মন বলেন, আমাদের স্কুল থেকে ২০২৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন পর্ষদ পরিচালিত চতুর্থ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ভালো ফল করেছে ছাত্রছাত্রীরা। ওই পরীক্ষায় রাজ্যে মেধা তালিকায় মোট ১৪ জন ছাত্রছাত্রী স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে দুই জন দ্বিতীয় ও একজন তৃতীয় হয়েছে। এদিন কলকাতায় ওই পড়ুয়াদের হাতে মানপত্র ও পুরস্কার তুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন পর্ষদ। মানপত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে ঈশিকা বর্মনের হাতে।