নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপালের অফিস লাগোয়া ৬১বছরের পুরনো বয়েজ হস্টেল। এখানে মোট ৮০জন ছাত্র থাকার পরিকাঠামো রয়েছে। একসময় কলেজে ভর্তির পর দূর দূরান্তের পড়ুয়ারা এই হস্টেলে থাকার সুযোগ পেতে হিমশিম খেত। সবার সুযোগ হতো এমনটা নয়। প্রিন্সিপালের টেবিলে বিধায়ক থেকে সাংসদের সুপারিশ চিঠি চলে আসত। এখন চিত্রটা একেবারে উল্টো। খাতায় কলমে তাম্রলিপ্ত বয়েজ হস্টেলে ছাত্র সংখ্যা তিনজন। তাঁদের মধ্যে দু’জন বিএড কোর্স করছেন, অপরজন পোস্ট গ্র্যাজুয়েটের পড়ুয়া। দোতলার বয়েজ হস্টেল যেন ভূতুড়ে বাড়ি। বছরের পর বছর ব্যবহার না হওয়া সারি সারি ঘর দরজা বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পুরনো জমিদারি ঘরানার এই বিল্ডিং যেন ‘হানাবাড়ি’।
গত কয়েক বছর ধরে তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ে পড়ুয়া সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। গত বছর অনার্স ও জেনারেল কোর্স মিলিয়ে প্রায় ২৪০০আসনের মধ্যে ৯০০ পড়ুয়া ভর্তি হয়েছেন। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন ফাঁকা। অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সংস্কৃত, অঙ্ক, পদার্থবিদ্যা অনার্সে হাতে গোনা ছাত্রছাত্রী। এখন আর দূরদূরান্ত থেকে পড়ুয়ারা কলেজে ভর্তি হতে আসেন না। তাই হস্টেল কিংবা মেসের প্রয়োজন নেই। পাঁশকুড়া বনমালী কলেজ, মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর মহাবিদ্যালয় কিংবা মহিষাদল রাজ কলেজে তুলনামূলক ছাত্রছাত্রী অনেক বেশি। কিন্তু, জেলা সদরে তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয় পড়ুয়া সঙ্কটে ভুগছে। আগামী দিনে কলেজে কী ভাবে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করার সময় এসেছে। সময়মতো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে একাধিক বিষয়ে ক্লাসরুম, অধ্যাপক থাকলেও পড়ুয়া মিলবে না।
জানা গিয়েছে, করোনার সময় থেকেই তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের হস্টেলে এই বেহাল অবস্থার সূচনা হয়। তখন আড়াই বছরের বেশি সময় হস্টেল ফাঁকা ছিল। তারপর সবকিছু স্বাভাবিক হলেও এখানকার হস্টেলের হাল ফেরেনি। ২০২৪সালে স্নাতকে মোট আসনের এক-তৃতীয়াংশ পড়ুয়া ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের একজনও বয়েজ হস্টেলে থাকছেন না। এবার উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর আবার কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। স্বল্প সময়ের সার্টিফিকেট কোর্স, কেরিয়ার কাউন্সেলিং সহ নানারকম পদক্ষেপ না নিলে তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের সামগ্রিক বেহাল অবস্থার হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয়ের হস্টেল সুপার রজত আড়ি বলেন, বয়েজ হস্টেলে মোট ৮০জনের থাকার অনুমোদন আছে। এক সময় হস্টেল পরিপূর্ণ ছিল। কিন্তু, করোনার সময় থেকে হস্টেল ফাঁকা হতে শুরু করে। তারপর আর হস্টেলে পড়ুয়া পাওয়া যায়নি। এই মুহূর্তে তিনজন পড়ুয়া আছে। ওই কলেজের বিএড কোর্সের বিভাগীয় প্রধান তপন পট্টনায়েক বলেন, আগে হস্টেলের ব্যাপক চাহিদা ছিল। ইদানীং কলেজে পড়ুয়ার সংখ্যা কমছে। সেইসঙ্গে হস্টেলে আবাসিক পড়ুয়ার সংখ্যাও বেশ কম। গ্র্যাজুয়েশনে চার বছর সময় ব্যয় করতে রাজি হচ্ছে না অধিকাংশ পড়ুয়া। তারা স্বল্পমেয়াদি কোর্স, কর্মমুখী কোর্সে আগ্রহী হয়ে পড়ছে। সাধারণ ডিগ্রি কলেজেও এধরনের কোর্সের উপর জোর দিতে হবে। তাহলে পড়ুয়া সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।