সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার বহু প্রাথমিক স্কুলের পরিকাঠামোর দফারফা অবস্থা। কোনও স্কুলে স্বল্প বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে জল ঢুকে যায়। আবার কোথাও স্কুলের আশপাশে রয়েছে বিষাক্ত সাপের আনাগোনা। ভয়ে কাঁটা অভিভাবকরা খুদে ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতেই ভয় পাচ্ছেন। কোনও স্কুলের শ্রেণিকক্ষের বেহাল অবস্থা। সেখানে স্কুলবাড়ির দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। ছাদ থেকে খসে পড়ছে চাঙড়। এই পরিস্থিতিতে দাঁইহাট চক্রের স্কুল পরিদর্শক পিনাকী ঘোষ বলেন, জল জমে যাওয়া কলসা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেব। বাকি স্কুলগুলির অবস্থার কথাও জানি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বাকি স্কুলগুলির বিষয়েও জানাব।
দু’দিন আগে কাটোয়ার কলসা অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুলে বৃষ্টির জল জমে নাজেহাল হতে হয়েছিল শিক্ষক ও পড়ুয়াদের। যদিও সেখানে জল নেমে গিয়েছে। তবে শ্রেণিকক্ষের অবস্থা বেহাল। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করতে হচ্ছে।
কাটোয়া-১ ব্লকের গীধগ্রামের কলসা অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুলের শ্রেণিকক্ষগুলি রাস্তা থেকে নিচু। ফলে স্বল্প বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে জল ঢুকে যায়। ওই স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ৮১ জন পড়ুয়া পড়াশুনা করে। স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা তিন। প্রধান শিক্ষক রামবরণ দাস বলেন, বর্ষা এলেই আমাদের জলে পা ডুবিয়ে ক্লাস করাতে হয়। এর আগে বহুবার প্রশাসনকে জানিয়েছি।
কাটোয়ার হরিপুর মাঝিপাড়া অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুলের অবস্থাও একই। সেখানে ছাদের চাঙড় খসে পড়ছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুঁয়ে জল পড়ে শ্রেণিকক্ষে। পড়ুয়াদের বৃষ্টির মধ্যেই স্যাঁতসেঁতে ঘরে বসে ক্লাস করতে হয়। এই স্কুলে ৩২ জন পড়ুয়াকে তিনজন শিক্ষক পড়ান। স্কুলের প্রধান শিক্ষক কৌশিক দে বলেন, কয়েকদিন আগেই ছাদের বড় চাঙড় খসে পড়েছিল। আমরা প্রশাসনকে বহুবার জানিয়েছিলাম। এখব শুনছি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। শ্রেণিকক্ষের মধ্যেই সাপের খোলস পড়ে থাকছে। অভিভাবকরাও ভয় পাচ্ছেন ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে।
কাটোয়ার বিজয়নগর মালিপাড়া প্রাথমিক স্কুলের দু’তলা ভবনের করুণ দশা। এখানেও ছাদের চাঙড় খসে পড়ছে। যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। কাটোয়া -১ ব্লকের বিজয়নগর মালিপাড়া প্রাথমিক স্কুল ২০০২-’০৩ সালে দু’তলা হয়। বর্তমানে ওই স্কুলে শিশুশ্রেণি থেকে চতুর্থ পর্যন্ত ৬৩ জন পড়ুয়া ও তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু স্কুলের বেহাল দশার জন্য শিক্ষকরা ঝুঁকি নিতে পারেননি। তড়িঘড়ি স্কুল পরিদর্শকের অনুমতি নিয়ে বিজয়নগর বাসস্ট্যান্ডে থাকা আরেকটি প্রাথমিক স্কুলে মালিপাড়ার স্কুলটি স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
মালিপাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিহির থাণ্ডার বলেন, স্কুলের দোতলা ভবনের পুরোটাই ভগ্নপ্রায়। প্রায় দিনই চাঙড় খসে পড়ছে। কংক্রিটের ছাদের ঢালাইতেও ফাটল ধরা পড়েছে। তাই বিপদ এড়াতে বিজয়নগর প্রাথমিক স্কুলের মধ্যেই সকালে আমাদের স্কুল চালাতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজয়নগর প্রাথমিক স্কুলেরও ঘরের অভাব আছে। তা সত্ত্বেও মালিপাড়া স্কুলের জন্য দু’টি ঘর ও একটি রান্নাঘর ছাড়তে হয়েছে তাঁদের। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজকুমার রায় বলেন, আমাদের স্কুলেরও বেশ কয়েকটি ঘর অত্যন্ত বেহাল। তা সত্ত্বেও মালিপাড়া প্রাথমিক স্কুলকে ঘর ছাড়তে হয়েছে। আমাদের স্কুলেরও সংস্কার জরুরি।-নিজস্ব চিত্র