নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দূরপাল্লার ট্রেন, ভিড় ঠাসা রেল স্টেশন, ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড কিংবা ধর্মীয় জমায়েত— এই সব জায়গাই ছিল গ্যাংটির মূল লোকেশন। টার্গেট বয়স্ক যাত্রী ও মহিলা। বড় ব্যাগ বা ট্রলি দেখলেই সুযোগ বুঝে শুরু হতো অপারেশন। এক পলকে ব্যাগের চেন খুলে গয়না, টাকা তুলে নিয়ে ভিড়ে মিশে যেত দলটি। অপরাধ জগতে এই গ্যাং পরিচিত ‘শান-সি-সুলতানপুরী’ নামে। দিল্লি, মহারাষ্ট্র এবং অন্ধ্রপ্রদেশে এই দলের বহু সদস্য ধরা পড়লেও মূল চক্রীদের এতদিন নাগাল পাওয়া যায়নি। অবশেষে খড়্গপুর জিআরপি দীর্ঘ ট্র্যাকিংয়ের পর বুধবার রাতে সাঁতরাগাছি স্টেশন থেকে গ্রেফতার করেছে তিন দুষ্কৃতী রণবীর সিং ওরফে মাস্টার, আজমের সিং ওরফে কালিয়া এবং মুকেশকে। তিনজনই দিল্লির সুলতানপুরের বাসিন্দা। ধৃতদের ১১ দিনের হেপাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে জিআরপি। জিজ্ঞাসাবাদে নেমেছে সিআইডিও।
গোপন সূত্রে খবর পেয়েই আগেভাগেই সাঁতরাগাছি স্টেশনের ৬ ও ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ফাঁদ পাতেন শালিমার থানার অফিসাররা। সেকেন্দ্রাবাদ এক্সপ্রেস থেকে নামতেই ধরা পড়ে গ্যাংয়ের কুখ্যাত মাস্টারমাইন্ড রণবীর সিং। তার সঙ্গী দুই দুষ্কৃতীকেও পাকড়াও করে পুলিশ। উদ্ধার হয় ৩০ গ্রাম সোনার গয়না, নকল আধার ও ভোটার কার্ড, কয়েকটি মোবাইল ফোন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তেলেঙ্গানায় বড়সড় অপারেশন সেরে ফের হাওড়া-কলকাতায় চুরির ছক কষেছিল তারা। রণবীর সিং ওরফে মাস্টার গত দশ বছরে রাজস্থান, গুজরাত, অন্ধপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছে। আজমের সিং ওরফে কালিয়া টাটানগরের কাছে দূরপাল্লার ট্রেনে ধরা পড়েছিল। গ্যাংটির কাজের ধরন পরিকল্পিত। অভিযানের আগে দিল্লির সঞ্জয় গান্ধী ট্রান্সপোর্ট নগর এলাকায় তৈরি হতো নকল আইডি কার্ড। তারপর দিল্লি থেকে ফ্লাইটে করে পৌঁছে যেত অন্য রাজ্যে। তারা অপারেশন চালাত মূলত ধর্মীয় উৎসবের মরশুমে। যেমন নবরাত্রি, পোঙ্গল কিংবা দুর্গাপুজো। জনবহুল স্থানেই বাড়ত তাদের কার্যকলাপ। দলে স্থূল চেহারার দু’জন কোনও মহিলা বা বয়স্ক যাত্রীকে ঘিরে দাঁড়াত, সেই সুযোগে মাস্টার মুহূর্তে ব্যাগের চেন খুলে মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিত।
খড়্গপুর জিআরপির সুপারিনটেন্ডেন্ট দেবশ্রী সান্যাল বলেন, ‘এরা সবসময় ইন্টারনেট কলের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলে। সেকারণে এদের ট্র্যাক করা কঠিন ছিল। গ্যাংয়ের আরও কয়েকজন মাস্টারমাইন্ড অধরা। তাদের খোঁজ চলছে।’ পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, অতীতে ধরা পড়লেও পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকার কারণে বা গ্যাংয়ের মূল পরিচয় গোপন রাখতে সক্ষম হওয়ায় সহজেই ছাড়া পেয়ে যেত এরা। ইতিমধ্যেই পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে হাওড়া ও কলকাতায় আগেও একই কায়দায় চুরির কথা স্বীকার করেছে ধৃতরা। সেইসব মামলার সূত্র ধরেই সিআইডি আধিকারিকরা এদিন দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তিনজনকে। নিজস্ব চিত্র