Bartaman Logo
৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

একই পরিবারের ৩ জনের আত্মহত্যার চেষ্টা, মৃত ২

বাজারে বেড়েই চলছিল ঋণের পরিমাণ। বাড়ি বিক্রি করে উঠেছিলেন ভাড়াবাড়িতে! কিন্তু, তারপরও মেটেনি ঋণ। অবশেষে সেই দেনার দায়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন একই পরিবারের ৩ জন।

একই পরিবারের ৩ জনের আত্মহত্যার চেষ্টা, মৃত ২
  • ৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বাজারে বেড়েই চলছিল ঋণের পরিমাণ। বাড়ি বিক্রি করে উঠেছিলেন ভাড়াবাড়িতে! কিন্তু, তারপরও মেটেনি ঋণ। অবশেষে সেই দেনার দায়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন একই পরিবারের ৩ জন। তার মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক। নিউটাউন সংলগ্ন নারায়ণপুর থানার দেবীপার্ক এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল ছড়িয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, আর জি কর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সঞ্জয় দে। মারা গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী মহুয়া দে (৪২) এবং সঞ্জয়বাবুর শাশুড়ি শিপ্রা রক্ষিত (৭০)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস আর্থিক সমস্যা ও দেনার কথাই জানতে পেরেছে। পুলিসের দাবি, সঞ্জয় সুস্থ হয়ে উঠলে আত্মহত্যার কারণ আরও স্পষ্ট হবে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সঞ্জয়বাবু শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শেয়ার বাজারের কাজ করতেন। আগে নারায়ণপুরে তাঁদের নিজস্ব বাড়ি ছিল। সেখানে তাঁর বাবা-মাও থাকতেন। কিন্তু, আর্থিক সমস্যার জেরে সঞ্জয়বাবু ওই বাড়িটি বিক্রি করে দেন। বয়স্ক বাবা-মাকে বাধ্য হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়। দেবীপার্কে ছ’মাস আগে তিনি 
একটি বাড়ি ভাড়া নেন। সেখানে সঞ্জয়বাবু, তাঁর স্ত্রী এবং শাশুড়ি একসঙ্গে থাকতেন। তাঁদের কোনও সন্তান নেই। সঞ্জয়বাবু তাঁর 
স্ত্রী ও শাশুড়ি সকলেই অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসার খরচও জোগাড় করতে পারছিলেন না। এমনকী, যে বাড়িতে উঠেছিলেন 
সেখানে ভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ফুরিয়ে গিয়েছিল।
বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁরা মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বাড়ির বাইরে খুব একটা বের হচ্ছিলেন না। দু’দিন বাড়ি থেকে কেউ বের না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর বাড়ি মালিক পুলিসকে খবর দেন। তারপরই নারায়ণপুর থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করা ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের সামনে পুলিস দরজা ভাঙে। পুলিস জানিয়েছে, ভিতরে মহুয়াদেবী কার্যত মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন। সঞ্জয় ঘোরের মধ্যে ছিলেন। তাঁর শাশুড়ির তখনও প্রাণ ছিল। তিনজনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মহুয়াদেবী এবং শিপ্রাদেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ভর্তি করা হয় সঞ্জয়বাবুকে। পুলিস জানতে পেরেছে, ঘুমের ওষুধের সঙ্গে প্রেসারের ওষুধও তাঁরা খেয়েছিলেন।

Advertisement


এই বাড়িতেই ঘটে ঘটনাটি।- নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ