সংবাদদাতা, মানিকচক: ভূতনির দক্ষিণ চণ্ডীপুরে চাষের জমিতে ফসল তোলা নিয়ে বচসার জেরে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন চাষি দীনেশ মণ্ডল। গুরুতর আহত আরও দুই। আক্রান্তের পরিবারের দাবি, ফের হামলার ভয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভূতনি থানায় অভিযোগ জানাতে পারছেন না তাঁরা। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে ভূতনি থানার দক্ষিণ চণ্ডীপুর চরে।
প্রতিবছর গঙ্গার জল বাড়তেই জলমগ্ন হয় দক্ষিণ চণ্ডীপুর মৌজার বিস্তীর্ণ এলাকা। জল নামলে নদীর মাঝে জেগে ওঠা চরে চলে চাষাবাদ। সেই জমির ফসল তোলাকে কেন্দ্র করে শনিবার বচসায় জড়ায় দু’পক্ষ। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম নারায়ণপুরের জানকীরামটোলার বাসিন্দা দীনেশ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা কয়েক মাস আগে চরে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে মসুর চাষ করেছিলেন। সেই ফসল তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। তার মধ্যেই শনিবার শুনতে পান ফসল তুলে নিচ্ছেন ভূতনির দুর্গারামটোলা, কিষাণটোলার বাসিন্দা হরি ঘোষ, বিশ্বজিৎ ঘোষ, রামপ্রকাশ ঘোষ, ভীম ঘোষ সহ অন্যরা। বিষয়টি জানার পর জমিতে গিয়ে বাধা দেন দীনেশ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। উভয়পক্ষ বচসায় জড়ান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ভূতনি থানার পুলিস এবং উভয়পক্ষকে থানায় ডাকা হয়। অভিযোগ, পুলিস ঘটনাস্থল ছাড়তেই দীনেশের উপর চড়াও হন ঘোষ পরিবারের সদস্যরা। লাঠি, ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয় তাঁকে। দীনেশকে বাঁচাতে গেলে তাঁর ভাইপো রাম ও শ্যাম মণ্ডলকেও মারধর করা হয়। এরই মধ্যে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। সেই গুলিতে গুরুতর আহত হন দীনেশ। গুলি চালানোর খবর পেয়ে ফের ঘটনাস্থলে যায় ভূতনি থানার পুলিস। গুরুতর আহত দীনেশকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় দিয়ারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। তবে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। এবিষয়ে রাম বলেন, আমাদের ফসল দখল করার চেষ্টা করছিল হরি ঘোষ, বিশ্বজিৎ ঘোষ, রামপ্রকাশ ঘোষ, ভীম ঘোষ সহ তাদের পরিবারের অন্যরা। বাধা দিলে আমাদের উপর তিন রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে। একটি গুলি লেগেছে কাকা দীনেশের গায়ে। পরে আমাদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে কান ধরে উঠবস করানো হয়। শনিবার ঘটনা ঘটলেও আতঙ্ক ও ভয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করতে পারছি না।
অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন রামপ্রকাশ। তিনি বলেন, জমিতে ফসল লাগিয়েছে আমার পরিবারের সদস্যরা। এদিন ফসল তুলতে গেলে হামলা করেন দীনেশ ও তাঁর পরিবার। গুলিও দীনেশই চালিয়েছেন বলে শুনেছি। নিজের গুলিতেই তিনি জখম হয়েছেন। মারধর ও গুলি চালানোর ঘটনায় আমার পরিবারের কেউ যুক্ত নয়। যদিও ভূতনি থানায় লিখিত অভিযোগ না হওয়ায় মন্তব্য করতে চাননি পুলিস আধিকারিক। নিজস্ব চিত্র।