Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ! রোগী নামিয়ে ফেরার পথে জামালপুরে দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালক সহ মৃত ৩

শনিবার ভোরে ফের ১৯ জাতীয় সড়কে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তিনজনের। জামালপুরের মুসুণ্ডা এলাকায় জাতীয় সড়কের দুর্গাপুরগামী লেনে লরির পিছনে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধাক্কা মারে। অ্যাম্বুলেন্সে রোগী ছিল না।

১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ! রোগী নামিয়ে ফেরার পথে জামালপুরে দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের চালক সহ মৃত ৩
  • ২২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শনিবার ভোরে ফের ১৯ জাতীয় সড়কে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তিনজনের। জামালপুরের মুসুণ্ডা এলাকায় জাতীয় সড়কের দুর্গাপুরগামী লেনে লরির পিছনে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধাক্কা মারে। অ্যাম্বুলেন্সে রোগী ছিল না। চালক, টেকনিসিয়ান সহ অ্যাম্বুলেন্সের তিনজন মারা যান। তিনজন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁরা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। জখমরা পুলিসকে জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত গতিতে জাতীয় সড়ক ধরে যাচ্ছিল। সামনে থাকা একটি ট্রাক আচমকাই ব্রেক কষায় অ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। লরির পিছনে অ্যাম্বুলেন্সটি ধাক্কা মারে। ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ ঘটনা ঘটায় রাস্তায় তেমন লোকজন ছিল না। বেশ কিছুক্ষণ পর পুলিস খবর পেয়ে সকলকেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তিনজনকে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

Advertisement

পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম মদন দাস(৫৫), বিশ্বজিৎ চৌধুরী(৬০) এবং বিধান রুইদাস(৩৫)। বিশ্বজিৎবাবু টেকনিসিয়ান ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্স চালক বিধান রুইদাসের বাড়ি বীরভূমের ইলামবাজার এলাকায়। মদনবাবু টেকনিসিয়ানের আত্মীয়। অ্যাম্বুলেন্সটি দমদমে রোগী পৌঁছে দিয়ে দুর্গাপুরের দিকে ফিরছিল। অ্যাম্বুলেন্স চালক ঘুমিয়ে যাওয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান। দমদমের এক রোগী দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সুস্থ হওয়ার পর তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফেরার সময়ই মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। 
দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সে টেকনিসিয়ানের চার আত্মীয় ছিলেন। তাঁরা দমদম থেকে দুর্গাপুরে ফিরছিলেন। বাসিন্দারা বলেন, জাতীয় সড়কে সম্প্রতি একাধিক দুর্ঘটনায় কয়েকজন মারা গিয়েছেন। বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা পুলিস আধিকারিক অভিষেক মণ্ডল বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিস জখমদের উদ্ধার করে। তাঁদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনা কমানোর জন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ট্রাফিক পোস্ট হয়েছে। চালকরা যাতে না ঘুমিয়ে যান, সেই কারণে ভোরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে চালকদের চা খাওয়ানো হয়। তারপরও বারবার দুর্ঘটনা ঘটায় আধিকারিকরা উদ্বেগে রয়েছেন। স্থানীয়রা বলেন, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ ধীরগতিতে চলছে। তার জেরেও কয়েক জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটছে। কাজ চলার জন্য রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। কয়েকদিন আগেই জেলা প্রশাসন বৈঠক করে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। 

সম্পর্কিত সংবাদ