সংবাদদাতা, ডোমকল: চুরি করা বাইক আস্ত বিক্রি করা খুবই সমস্যার। রয়েছে পুলিসি ধরপাকড়ের ঝক্কি। ধরা পড়লেই সোজা গারদে। আবার অতবড় জিনিস লুকিয়ে পাচার করাও সহজ নয়। বরং তার থেকে ঢের সুবিধে সেটাকে কাটাই করে যন্ত্রাংশ বিক্রি। এতে পুলিসি ঝক্কি এড়ানো যায়। সাথে থাকে না চুরি বাইকের হদিশ। সীমান্তের থানা এলাকায় চুরির বাইকগুলিকে এভাবেই কাটাই করে বিক্রি করা হতো বলেই খবর পুলিস সূত্রে। প্রথমে বাইক চুরি করে লুকিয়ে রাখা হতো গোপন ডেরায়। পরে সেখান থেকেই তা পৌঁছত চক্রের সঙ্গে যুক্ত গ্যারেজ মালিকদের গাছে। এরপরে আস্ত বাইককে কাটাই করে পার্টসগুলো খুলে খুলে তা বিক্রি করে দেওয়া হতো অন্যান্য গ্যারাজে। ডোমকলে বাইক চুরির তদন্ত নেমে তিন গ্যারাজ মালিককে গ্রেপ্তারির পর পুলিস সূত্রে উঠে আসছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য ।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাসে ডোমকল সহ মহকুমার সীমান্তের থানা এলাকায় ঘনঘন চুরি যাচ্ছিল বাইক। বেশিরভাগ সময়েই বাইক লক করা থাকলেও চাবি ছাড়াই বাইক চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল দুষ্কৃতীরা। থানাগুলিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের হতেই ময়দানে নামে পুলিস। রবিবার ডোমকলে একটি বাইক চুরির অভিযোগ দায়ের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোর্স ইনপুটকে কাজে লাগিয়ে ডোমকলের শ্রীকৃষ্ণপুরের একটি গ্যারেজ থেকে চুরি যাওয়া ওই বাইকটি উদ্ধার করেছিল পুলিস। এরপরে ওই গ্যারেজ মালিককে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাতেই পুলিস খোঁজ পায় ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত হরিহরপাড়া ও দৌলতাবাদের দুই গ্যারেজ মালিকের। এরপরে ওই দুই গ্যারেজে হানা দিয়েই আরও চারটি বাইক ও একটি চুরি যাওয়া টোটো উদ্ধার করে পুলিস। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিসের অনুমান, ধৃতরা বাইক চুরির একটি চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
পুলিস সূত্রে উঠে আসছে, বিভিন্ন এলাকায় বাইক চুরি করে ঝক্কি এড়াতে প্রথমে বাইকগুলিকে গোপন ডেরায় লুকিয়ে রাখা হতো। এরপর সেই ডেরা থেকে বাইকগুলিকে পৌঁছে দেওয়া হতো, ওই চক্রের সদস্য তথা তিন গ্যারেজ মালিকের কাছে। এরপরে বাইকগুলিকে কাটাই করে তার যন্ত্রাংশ আলাদা আলাদা করে খুলে নেওয়া হতো। শেষে যন্ত্রাংশগুলি পৌঁছে যেত এই চুরি চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বেশ কিছু গ্যারেজ মালিকের। তারাই কম দামে ওই পার্টসগুলি কিনত।
পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ইতিমধ্যেই তাদের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকিদের ধরা হবে।