সংবাদদাতা, কালিয়াচক: খুশির খবর বদলে গেল বিষাদে। ঈদ উপলক্ষ্যে ভিনরাজ্য থেকে চার মাস পর বাড়ি ফিরছিলেন যুবক। ফরাক্কা স্টেশনে নেমে দুই বন্ধুর সঙ্গে বাইকে চেপে বাড়ির পথে যাওয়ার সময় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল তিনজনের। রবিবার সাত সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার ১৮ মাইলে। ঘটনার জেরে শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তিন যুবকের নাম সাবির আলম (২৪), রমজান শেখ (১৯) ও সাদিকাতুল ইসলাম (২০)। তাঁরা বাইকে চেপে ফরাক্কার দিক থেকে আসছিলেন। ঠিক সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি লরি তাঁদের বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে। প্রত্যক্ষদর্শী বাবলু মণ্ডল বলেন, দুর্ঘটনার সময় ওই তিনজন একটি বাইকেই চেপেছিলেন। তাঁদের মাথায় কোনও হেলমেট ছিল না। এমনকী তাঁরা হোটেলে যাওয়ার জন্য নিজেদের দিক ছেড়ে অন্য সাইডে চলে যান। তখনই ওই লরিটি তাঁদের বাইকে ধাক্কা মারে। যুবকদের বাইকটি লরির চাকার নীচে পড়ায় চুরমার হয়ে যায়। আকস্মিক এমন ঘটনা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান স্থানীয়রা। দ্রুত প্রত্যক্ষদর্শীরা বিষয়টি বৈষ্ণবনগর থানা এবং এনএইচআইএ ফোন করে জানালে তিনজনকে উদ্ধার করে বেদরাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার কৃষ্ণচন্দ্র পোদ্দার জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ওই তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। তবে এরকম দুর্ঘটনাগ্রস্ত শরীর প্রথম দেখলাম। তিনজনের শরীরের অবস্থা প্রচণ্ড খারাপ ছিল। সাবিরের আত্মীয় করিম শেখ জানান, চার মাস আগে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে কেরলে গিয়েছিলেন সাবির। বাড়ি ফেরার জন্য তিনদিন আগে তিনি ট্রেনে চাপেন। এদিন সকালে ফরাক্কা স্টেশনে নেমেই বাবাকে ফোনে সাবির জানান ট্রেন থেকে নেমে বন্ধুদের বাইকে চেপে বাড়ি ফিরছেন। বাড়ি থেকে রমজান এবং সাদিকাতুল তাঁকে আনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে তাঁরা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। সকাল সাতটা নাগাদ দুর্ঘটনা ঘটে। থানা থেকে ফোন করে খবর দেওয়া হয় সাবিরের বাড়িতে। এরপরই রমজান ও সাদিকাতুলের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়। সাদিকাতুলের দাদা তাজামুল শেখ বলেন, ভাই সকালেই রমজানকে নিয়ে গিয়েছিল। ভাবতেই পারছি সে আর নেই। বাবা-মা ঘটনা শোনার পর ভেঙে পড়েছেন। এদিকে ঘটনা জানাজানি হতেই গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পুলিস জানিয়েছে ঘাতক লরিটিকে আটক করা হয়েছে। চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রমজানের বাড়ির সামনে প্রতিবেশীদের ভিড়।