Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

৩ কোটির জুমলা! দিল্লি সরকারের কৃত্রিম বৃষ্টির উদ্যোগ ফ্লপ

কৃত্রিম বৃষ্টি করবে বিজেপি সরকার। প্রায় তিন কোটি টাকার প্রকল্প। আর সেটাও ব্যর্থ! মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বাধীন দিল্লির বিজেপি সরকারের কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের উদ্যোগ ফ্লপ।

৩ কোটির জুমলা! দিল্লি সরকারের কৃত্রিম বৃষ্টির উদ্যোগ ফ্লপ
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কৃত্রিম বৃষ্টি করবে বিজেপি সরকার। প্রায় তিন কোটি টাকার প্রকল্প। আর সেটাও ব্যর্থ! মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বাধীন দিল্লির বিজেপি সরকারের কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের উদ্যোগ ফ্লপ। ক্লাউড সিডিংয়ের প্রথম ১৫ মিনিট থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল। অন্তত মঙ্গলবার এমনই দাবি করেছিলেন দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা। কিন্তু সেই সময়সীমা দূরঅস্ত, ক্লাউড সিডিংয়ের ২৪ ঘণ্টা পরেও বহুলচর্চিত কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের এক ফোঁটাও গায়ে পড়ল না দিল্লিবাসীর। পরিবর্তে বুধবার আরও একবার যে ক্লাউড সিডিংয়ের সম্ভাবনা ছিল, তাও স্থগিত করে দিয়েছে আইআইটি কানপুর। জানানো হয়েছে, মেঘে আর্দ্রতা আরও বাড়লে ফের পরীক্ষামূলক অভিযান করা হবে। অর্থাৎ, পুরো বিষয়টি নিয়েই কার্যত প্রশ্নচিহ্ন। আর বিরোধীরা একে কী বলছে? বিজেপি সরকারের আরও একটা জুমলা।

Advertisement

গত মে মাসেই দিল্লি সরকারের মন্ত্রিসভা পাঁচটি ক্লাউড সিডিং ট্রায়ালের জন্য মোট ৩ কোটি ২১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। এদিন কানপুর আইআইটির অধিকর্তা মণীন্দ্র গুপ্তা জানিয়েছেন, ‘ট্রায়াল পিছু ৬০ থেকে ৬৪ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে যদি শীতের গোটা মরশুমেই দিল্লিতে ক্লাউড সিডিংয়ের ট্রায়াল হয়, এসংক্রান্ত খরচের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হতে পারে প্রায় ২৫ কোটি টাকা!’ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি সরকার কি তার নয়া জুমলায় আরও কোটি কোটি টাকা খরচ করার পথে হাঁটবে? এবিষয়ে ইতিমধ্যেই তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। কৃত্রিম বৃষ্টিপাত নিয়ে দিল্লি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন, ‘আদতে এব্যাপারে সার্কাস চালানো হচ্ছে। গত ডিসেম্বরেই কেন্দ্র স্পষ্টই জানিয়েছিল, দিল্লিতে বৈজ্ঞানিকভাবে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত সফল হওয়া সম্ভবই নয়। তা সত্ত্বেও চমক দিতে কোটি কোটি টাকা নষ্ট করছে বিজেপি সরকার।’ আপের তীব্র কটাক্ষ, এরপর দিল্লিতে স্বাভাবিক বৃষ্টি হলেও বিজেপি সরকার এর কৃতিত্ব নিতে চাইবে। পালটা দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা জানিয়েছেন, ‘আপ সরকার বিগত ১০ বছর ধরে সমস্ত কাজে ব্যর্থ হয়েছে। তারা নতুন সরকারের কোনও কাজই সমর্থন করবে না। আইএমডি জানিয়েছে, বুধবার বিকেল ৪টের পর মেঘে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাবে। তখন ক্লাউড সিডিংয়ের ট্রায়াল রান করা যেতে পারে।’ যদিও বুধবার আর কোনও এসংক্রান্ত পরীক্ষামূলক অভিযান হয়নি। 
দিল্লিতে এ পর্যন্ত মোট তিনবার ক্লাউড সিডিংয়ের ট্রায়াল রান করেছে বিজেপি সরকার। এদিন কৃত্রিম বৃষ্টিপাত হয়নি ঠিকই। তবে কানপুর আইআইটির রিপোর্টে দাবি, মঙ্গলবার দু’বারের ক্লাউড সিডিং ট্রায়ালে দূষণের পরিমাণ কিছুটা কমানো গিয়েছে। বুরারি, নর্থ করোলবাগ, ময়ূরবিহারের মতো দিল্লির যেসব জায়গায় এহেন ট্রায়াল হয়েছে, সেখানে বাতাসে দূষণ সৃষ্টিকারী উপাদান পিএম২.৫ এবং পিএম১০-এর হার ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। যদিও সিপিসিবির তথ্য বলছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় বুরারি ক্রসিংয়ের একিউআই ছিল ৩০২, অর্থাৎ অতি খারাপ। পটপরগঞ্জ, মন্দির মার্গেও একই অবস্থা। খারাপ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ