Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তিনমাসে চাকরিহারা ৩ কোটি! বেকারত্ব নিয়ে বাজেটে নিশ্চুপ কেন্দ্র: অমিত মিত্র

২০২৫ সালের শেষ তিনমাসে চাকরি খুইয়ে গোটা দেশে বেকার হয়েছেন ৩ কোটি ২৯ লক্ষ যুবক-যুবতী। অথচ, ‘যুবশক্তি’র হাত শক্ত করার কথা শুরু করেও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কোনোরকম দিশা দেখাতে ব্যর্থ।

তিনমাসে চাকরিহারা ৩ কোটি! বেকারত্ব নিয়ে বাজেটে নিশ্চুপ কেন্দ্র: অমিত মিত্র
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৫ সালের শেষ তিনমাসে চাকরি খুইয়ে গোটা দেশে বেকার হয়েছেন ৩ কোটি ২৯ লক্ষ যুবক-যুবতী। অথচ, ‘যুবশক্তি’র হাত শক্ত করার কথা শুরু করেও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কোনোরকম দিশা দেখাতে ব্যর্থ। কেন্দ্রের এই ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে রবিবার মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের অর্থদপ্তরের প্রধান উপদেষ্টা অমিত মিত্র। সেইসঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর প্লান্ট বাংলা থেকে সরিয়ে ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্য অসমে তৈরি করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ কেন্দ্র ঘৃণ্য রাজনীতি করেছে বলেও এদিন সুর সপ্তমে তোলেন রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। তবে মোদি সরকারের এই রাজনীতি সত্ত্বেও বাংলা নিজের মানবসম্পদের উপর ভর করে সেমিকন্ডাক্টরসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ টানতে সক্ষম হচ্ছে বলেই জানিয়েছেন অমিতবাবু।

Advertisement

অমিত মিত্র বলেন, অসমের পলিটিকসটা আপনাদের জানা আছে। কেন সেখানে ডাইভার্ট করা হল তাও আপনারা জানেন। কেন্দ্রীয় সরকার রাজনীতি করে টাটাদের অসমে পাঠালে কিছু বলার নেই। তা সত্ত্বেও এখানে সেমিকন্ডাক্টর প্লান্ট গড়ে উঠছে। টিসিএস-এ ৫৪ হাজার চাকরি করছে। আরো ২০ হাজার করবে। কগনিজেন্ট, উইপ্রো সবাই করছে।  এদিনের বাজেটের তীব্র সমালোচনা করে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের তুলনায় শিক্ষা, কৃষক উন্নয়ন, তফসিলি ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন খাতের বাজেট কেন্দ্র অনেকগুণ কমিয়ে দেওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন অমিতবাবু। আর কেন্দ্রের পরিসংখ্যানের জাগলারিও প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি। সেই কারণে বাজেটে নির্মলার দেওয়া তথ্য একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয় বলেই তাঁর দাবি। কিন্তু কেন? অমিতবাবুর যুক্তি, গত দুটি অর্থবর্ষে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (শহর ও গ্রামীণ) এবং স্বচ্ছ ভারত মিশন (শহর) খাতে বাজেট বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম খরচ করেছে কেন্দ্র। এছাড়া মোদি সরকারের আর্থিক নীতির ফলে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্তরের বিনিয়োগকারীরা পাততাড়ি গুটিয়ে দেশ ছেড়েছেন। এমতাবস্থায় এদিনের বাজেটে এনআরআইদের কর ছাড়ের লোভ দেখিয়ে বিনিয়োগের যে আহ্বান জানানো হয়েছে সেটা আসলেই ভাঁওতাবাজি। দাবি অমিতবাবুর।

নির্দিষ্ট করের বদলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সেস চালু করায় রাজ্যগুলির আর্থিক স্বার্থ বিঘ্নিত হচ্ছে। তার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন অমিত মিত্র। পাশাপাশি কেন্দ্রের কর অংশ বাবদ (ডেভোলিউশন ফান্ড) রাজ্যের প্রাপ্য ষষ্ঠদশ অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ৪১ শতাংশ রেখে দেওয়ার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে বিপুল আর্থিক ভার রাজ্য কীভাবে সামাল দেয়, তা ৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্য বাজেটে পরিষ্কার হয়ে যাবে বলেও তিনি জানান। তবে, রাজ্যের তুলনায় কেন্দ্রের ঋণ-জিডিপি অনুপাত ২০ শতাংশ বেশি এবং বাংলার আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে বলেই তাঁর দাবি। অমিত মিত্র আরও জানান, ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য নির্দিষ্ট এফআরবিএম আইন মানলেও কেন্দ্র তার তোয়াক্কাই করে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ