Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩ কোটির কংক্রিটের সেতু তিন বছরে অসম্পূর্ণ, বর্ষায় ভাঙল কাঠের পোল

আবেদন-নিবেদন থেকে প্রশাসনিক আশ্বাস, সবই হয়েছে। কিন্তু আট বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান

৩ কোটির কংক্রিটের সেতু তিন বছরে অসম্পূর্ণ, বর্ষায় ভাঙল কাঠের পোল
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আবেদন-নিবেদন থেকে প্রশাসনিক আশ্বাস, সবই হয়েছে। কিন্তু আট বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। ২০২৩ সালে তিন কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নতুন কংক্রিটের সেতু নির্মাণের জন্য শিলান্যাস হলেও এখনও শেষ হয়নি কাজ। সম্প্রতি নদীর জল বেড়ে অস্থায়ী কাঠের পোল ভেঙে গিয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কৌশিকী নদী পারাপার করতে হচ্ছে স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জগৎবল্লভপুরের খাঁড়াপাড়া, গোয়ালপোতা সহ আশপাশের একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা। সেতুর কাজ দ্রুত শেষ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাঁড়াপাড়া ও গোয়ালপোতা এলাকার মাঝখানে কৌশিকী নদীর উপর থাকা পুরানো কংক্রিটের সেতুটি ২০১৮ সালে ভেঙে পড়ে। ওই সেতু ছিল কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসা। এরপর প্রশাসনের তরফে আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসাবে তৈরি করা হয় কাঠের পোল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে ওই জায়গায় নতুন কংক্রিটের সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্পের জন্য পূর্বতন রাজ্য সরকার ৩ কোটি ১০ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করে। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সেতুটির শিলান্যাস করেন। শিলান্যাসের ফলকে উল্লেখ ছিল, ৫৪৫ দিনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনও সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। বর্তমানে নির্মাণের সিংহভাগ কাজই থমকে রয়েছে। কাজের মধ্যে হয়েছে শুধু নদীর দু’পাশের অংশের পিলার।
গ্রামবাসীদের দাবি, পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে একই সময়ে কৌশিকী নদীর উপর শুরু হওয়া দু’টি সেতুর কাজ শেষ হয়ে গেলেও এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুর কাজ এখনও আটকে রয়েছে। চলতি বর্ষায় নদীতে জল বাড়ায় ভেঙে গিয়েছে অস্থায়ী কাঠের পোল। সেখানে যান চলাচল পুরোপুরি নিষেধ। নিরুপায় হয়ে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা ঝুঁকি নিয়েই এখন নদী পার হচ্ছে। অসুস্থ ও বয়স্কদের হাসপাতালে নিয়ে যেতেও সমস্যায় পড়েছেন পরিজনরা। বিকল্প পথে যেতে হলে তিন-চার কিলোমিটার রাস্তা অতিরিক্ত ঘুরতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জগৎবল্লভপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের তরফে নদী পারাপার নিষিদ্ধ করে বিজ্ঞপ্তি টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে আশ্বাস মিললেও কাজের অগ্রগতি নেই। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন স্থানীয় মহিলারা। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। জগৎবল্লভপুরের বিজেপি বিধায়ক অনুপম ঘোষ বলেন, ‘টাকা বরাদ্দ হওয়ার পরেও কাজ শেষ হয়নি। ঠিকাদারের গাফিলতি রয়েছে বলে অভিযোগ । দ্রুত হস্তক্ষেপ করা হবে।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ