Bartaman Logo
৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩ আদালতে বাড়ছে চেক বাউন্সের মামলা, থমকে অন্যান্য ফৌজদারি মামলার গতি

শহরের তিনটি ব্যস্ত আদালতে প্রচুর সংখ্যায় দায়ের হচ্ছে চেক বাউন্স সংক্রান্ত মামলা।

৩ আদালতে বাড়ছে চেক বাউন্সের মামলা, থমকে অন্যান্য ফৌজদারি মামলার গতি
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরের তিনটি ব্যস্ত আদালতে প্রচুর সংখ্যায় দায়ের হচ্ছে চেক বাউন্স সংক্রান্ত মামলা। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে এই ধরেনর মামলাগুলির জন্য শ্লথ হয়ে যাচ্ছে অন্যান্য ছোটখাটো ফৌজদারি মামলার শুনানির গতি। কোনও মামলার নিষ্পত্তি হতে গড়িয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। আলিপুর, শিয়ালদহ ও ব্যাঙ্কশাল—তিন আদালতেই কমবেশি একই অবস্থা। সূত্রের খবর, প্রতিদিনই এই তিনটি আদালতে শতাধিক মামলা পেশ করা হয়। সেসব মামলার প্রাথমিক শুনানি করতেই গড়িয়ে যায় অনেকটা সময়। পরবর্তী সময়ে মূল শুনানির জন্য মামলা স্থানান্তরিত করা হয় একটি নির্দিষ্ট বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, শহরের যেসব এলাকায় অফিস-কাছারির সংখ্যা বেশি, সেই সমস্ত এলাকা থেকেই চেক বাউন্সের বেশিরভাগ অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। ব্যাঙ্কশাল কোর্টের আইনজীবী সংগঠনের অন্যতম কর্তা তথা সরকারি আইনজীবী প্রবীর মুখোপাধ্যায় বুধবার বলেন, ‘এমনিতেই শহরের আদালতগুলিতে মামলার চাপ বেশি। বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় একাধিক সাক্ষী থাকে। সেরকম মামলার শুনানির দিনেই থাকে একাধিক চেক বাউন্সের মামলার শুনানি। বিভিন্ন মামলায় জামিনের আর্জির শুনানি তো আছেই। সব মিলিয়ে থমকে থাকে বহু ছোটখাটো মামলার বিচার। এর ফলে বিচারপ্রার্থীরাও বিস্তর সমস্যায় পড়েন। উত্তর কলকাতার রবীন্দ্র সরণির বাসিন্দা তমালতরু মজুমদার ব্যাঙ্কশাল আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, ‘৩৮ হাজার টাকার একটি চেক বাউন্সের মামলা আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে নিষ্পত্তি হল না। জানি না, শেষ পর্যন্ত সুদসহ ওই টাকা ফেরত পাব কি না?’ চিৎপুর থানা এলাকার বি টি রোডের বাসিন্দা সুজয় হালদার বলেন, ‘আমার দায়ের করা চেক বাউন্সের মামলা নিষ্পত্তি হতে চার বছরের বেশি সময় লেগেছিল।’ বিচারপ্রার্থীদের একাংশের বক্তব্য, ‘প্রতিটি আদালতে যদি চেক বাউন্সের মামলার জন্য বিশেষ এজলাস গঠিত হয়, তাহলে হয়তো দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি হওয়া সম্ভব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ