


সংবাদদাতা, বোলপুর: নকল সোনার কয়েনের তিন কারবারিকে হাতেনাতে ধরল শান্তিনিকেতন থানার পুলিস। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিনিকেতনের কোপাইয়ে। ধৃতদের থেকে ১২৩টি কয়েন উদ্ধার হয়েছে। লোভের ফাঁদে পড়ে বারবার প্রতারকদের হাতে সর্বস্বান্ত হচ্ছে মানুষ। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সহ নানা জায়গায় জোর প্রচার চালাচ্ছে বীরভূম জেলা পুলিস ও প্রশাসন। তারপরেও নকল সোনার কয়েনের কারবারিদের দাপট অব্যাহত। তবে, প্রতারণা করার আগেই তিন দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করে তাদের অপারেশন বানচাল করে দেয় পুলিস। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বাকিদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে শান্তিনিকেতন থানা।
‘বাবু, রাজু মিস্ত্রি বলচি, সেই যে আপনার বাড়িতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেছিলাম। স্যার, একটা বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে মাটির তলা থেকে বেশ কিছু সোনার মোহর পেয়েছি। সস্তায় দিয়ে দোবো, লিবেন?’ প্রথমে দুর্বৃত্তরা সরল গ্রাম্য ভাষায় মানুষকে লোভের ফাঁদে ফেলে। এরপর, শান্তিনিকেতন ও তৎসংলগ্ন নির্জন এলাকায় ডেকে এনে মারধর করে টাকা-পয়সা কেড়ে নেয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই এই নকল সোনার কয়েনের কারবারিদের রমরমা চলছে। এ যাবত একশোরও বেশি দুষ্কৃতী গ্রেপ্তার হয়েছে। তারপরেও কোনওভাবেই মূল কুচক্রীদের হদিশ পাচ্ছে না পুলিস। লাভপুর থানার হাতিয়া নকল সোনার কয়েনের ব্যবসার জন্য সবথেকে কুখ্যাত। এছাড়াও সাঁইথিয়ার কল্যাণপুর, বাতাসপুর, ভ্রমরকোল, আহমদপুর প্রভৃতি জায়গা এই অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার নানা প্রান্তে পুলিস সক্রিয় হওয়ায় দুর্বৃত্তদের দাপট অনেকটা কমলেও মাঝে মাঝেই প্রতারকদের পাল্লায় পড়ে অনেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার ব্যবসায়ীকে প্রতারকরা সোনার কয়েনের লোভ দেখায়। তিনি প্রতারক দলের কয়েকজনের সঙ্গে ট্রেনে কোপাইয়ে আসছিলেন। বাকিরা তাদের জন্য কোপাই স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অপেক্ষায় ছিল। গোপন সূত্রের খবর পেয়ে পুলিস ওই এলাকায় সাধারণ পোশাকে ওত পেতে বসেছিল। তবে পুলিসের উপস্থিতির টের পেয়ে তারা পালাতে শুরু করে। প্রতারকদের পিছু নিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয় পুলিস। অভিযুক্তদের নাম মাহিল শেখ, সাগর শেখ ও সানি আক্রম। ধৃতদের প্রত্যেকের বাড়ি সাঁইথিয়া থানা এলাকায়। তাদের কাছ থেকে মোট ১২৩টি নকল সোনার কয়েন উদ্ধার করেছে পুলিস। এদিন তাদের বোলপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে থাকা বাকি অভিযুক্তরা বিষয়টি জানতে পেরে ট্রেন থেকে নেমে চম্পট দেয়। তবে তাদের শীঘ্রই ধরা হবে বলে পুলিসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। -নিজস্ব চিত্র