সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বন্ধুর নতুন টোটো হাতিয়ে নিতেই ফরাক্কার যুবক ডালিম শেখকে খুন করে তারই দুই সঙ্গী। যুবককে খুনের ঘটনায় জড়িত দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জেরায় এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে পুলিসের। গত শুক্রবার রাতে এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতরা হল আজফারুল শেখ ও মোসারফ শেখ ওরফে রিঙ্কু। ধৃতদের প্রথম জনের বাড়ি ফরাক্কা থানা গোপালনগরে হলেও পরের জনের বাড়ি সামশেরগঞ্জের মালঞ্চায়। দুই যুবককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে লালগোলার অপর এক যুবক মোজাম্মেল হকের নাম জানতে পারে পুলিস। নিখোঁজ টোটোটি তার কাছ থেকে উদ্ধার হলে পরে পুলিস তাকেও গ্রেপ্তার করে। যদিও মৃতের মোবাইলটি এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিস। সেটিও উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস।
এ প্রসঙ্গে সামশেরগঞ্জ থানার এক পুলিস আধিকারিক জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে নেমে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টোটো ছিনিয়ে নিতেই খুন করা হয়েছে বলে জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার ঘটনার রাতে তিন বন্ধু মিলে লোকজন থেকে দূরে মালঞ্চা ফিডার ক্যানেলের ধারে বসে মাদক সেবন করে। নেশায় চুর হয়ে যায় ডালিম। তখনই টোটোতে রাখা একটি শক্ত কাঠ নিয়ে ডালিমের মাথায় আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই সে লুটিয়ে পড়ে। তাকে মালঞ্চা ফিডার ক্যানালের ধারে ঝোপজঙ্গলের মধ্যে ফেলে দেয়। তারপর টোটো নিয়ে চম্পট দেয়। গভীর রাত পর্যন্ত ওই যুবক বাড়িতে না ফিরলে ডালিমের স্ত্রী আসনারা খাতুন মোবাইলে ফোন করেন। কিন্তু তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে ফিডার ক্যানাল থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিস।
এদিকে, দুই অভিযুক্ত টোটো নিয়ে লালগোলা থানার শিকারপুরের এক যুবকের কাছে ৩০ হাজার টাকায় সেটি বিক্রি করে দেয়। এদিকে প্রমাণ লোপাট করতেই টোটো মালিকের মোবাইলটি ক্যানেলের জলে ফেলে দেয় বলেই জেরার জানিয়েছে ধৃতরা। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। মোবাইলের কল ডিটেইলস খতিয়ে দেখে ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে জানতে পেরেছে পুলিস। তিন যুবক দীর্ঘদিন একসঙ্গে এলাকায় ঘোরাঘুরি করত। একসঙ্গে নেশা ভাঙও করত বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। বন্ধুরাই যে তাঁকে নিয়ে গিয়ে খুন করবে, তা জেনে তাজ্জব এলাকাবাসী। স্থানীয় মহাদেবনগর গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্য ইনজামুল হক বলেন, তাদেরকে প্রায়শই একই সঙ্গে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যেত। কীভাবে এমন কাণ্ড ঘটল, তা ভেবে পাচ্ছি না। পুলিস পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক ও অপরাধীদের সাজা দিক।