নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হস্তান্তরের পরও ফের অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে জাল নথি তৈরি করে কলকাতায় বসবাসের অভিযোগ উঠেছে তিন আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ভবানীপুর থানা। তাদের কাছ থেকে মিলেছে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার ও আধার কার্ড সহ একাধিক নকল ভারতীয় নথি।
পুলিশ সূত্রে খবর, আফগান নাগরিক আবদুল্লা খান ১৯৯৫ সালে ভারতে আসে। সাহেব খান ও জলত খান ভারতে এসেছিল ২০১৭ সালে। ভবানীপুর এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে তারা। সুদের কারবার করত তিনজন। জাল নথি তৈরি করে ভারতে বসবাসের অভিযোগে তারা ২০১৯ সালে ধরাও পড়ে। এরপর তাদের আফগানিস্থানে ফেরত পাঠানো হয়। বছর খানেক পর তারা আবার অবৈধভাবে কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করে। নতুন করে জন্মের শংসাপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, আধার ও ভোটার কার্ড তৈরি করে। জাল ভিসাও বানিয়ে ফেলেছিল অভিযুক্তরা। ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের কাছে তথ্য আসে, ডিপোর্ট করা তিন আফগান নাগরিক আবার কলকাতায় থাকছে। সেই তথ্য কলকাতা পুলিশকে জানানো হয়। ভবানীপুর থানা তাদের ডেরায় হানা দিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, আফগান নাগরিকদের জাল ভারতীয় নথি তৈরি করে দেওয়ার জন্য কলকাতায় একটি চক্র রয়েছে। ওই চক্র খাতায়কলমে চলা বিভিন্ন হাসপাতাল বা নার্সিংহোমের নামে জন্মের শংসাপত্র তৈরি করছে। তা পুরসভায় জমা করে বার্থ সার্টিফিকেট নিচ্ছে। সেই ভিত্তিতে ইস্যু হচ্ছে আধার বা ভোটার কার্ড। পুলিশ জেনেছে, ধৃতদের আধার তৈরি হয়েছে ২০২৩ সাল নাগাদ। এই নথির ভিত্তিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও খুলেছে তারা। তদন্তে নেমে অফিসাররা জানতে পারছেন, ভুয়ো নথি তৈরির চক্র শুধু আফগানদের নকল নথি তৈরি করে দিচ্ছে না। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি নাগরিকদেরও জাল ভারতীয় নথি তৈরি করে দিচ্ছে বলে খবর। এই চক্রের পান্ডাদের খোঁজ শুরু হয়েছে। তিন অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, আফগান নাগরিকদের কেন পুলিশ হেপাজতে চাইছে, তার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা নেই। সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল বলেন, তাদের ডিপোর্ট করে দেওয়ার পরও আবার এখানে এসে জাল নথি তৈরি করে থাকছিল। এই নথি কোথা থেকে পেল জানতেই পুলিশি হেপাজতের প্রয়োজন। সওয়াল শেষে তাদের পুলিশি হেপাজতে পাঠায় আদালত। অন্যদিকে, জন্মের ভুয়ো শংসাপত্র দিয়ে পাসপোর্টের আবেদন করার অভিযোগে সাজিদ নামে এক যুবককে বুধবার গ্রেফতার করেছে সিকিওরিটি কন্ট্রোল।