Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হলদিয়ায় উৎকর্ষ বাংলা প্রশিক্ষণ শেষে ২৮ জনের হাতে জব লেটার

হলদিয়া ব্লকে ‘উৎকর্ষ বাংলা’র মাধ্যমে জুট ব্যাগ তৈরির প্রশিক্ষণের পর বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ২৮জন মহিলার হাতে চাকরির অফার লেটার তুলে দেওয়া হয়

হলদিয়ায় উৎকর্ষ বাংলা প্রশিক্ষণ শেষে ২৮ জনের হাতে জব লেটার
  • ২০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়া ব্লকে ‘উৎকর্ষ বাংলা’র মাধ্যমে জুট ব্যাগ তৈরির প্রশিক্ষণের পর বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে ২৮জন মহিলার হাতে চাকরির অফার লেটার তুলে দেওয়া হয়। ওই মহিলারা হলদিয়ার শ্যামা জুট প্রোডাক্ট নামে একটি গ্রামীণ হস্তশিল্প সংস্থায় জুনিয়র টেলর হিসেবে যোগদান করেছেন। ওই সংস্থায় তাঁরা মাসে ন্যূনতম ৫ হাজার ৮০০ টাকা করে বেতন পাবেন। কাজের দক্ষতা আরও বাড়লে তাঁদের উপার্জন দ্বিগুণ হতে পারে। আগামীদিনে তাঁদের হাতে তৈরি জুটের ডিজাইনার ব্যাগ বাংলা ছাড়িয়ে দিল্লি মুম্বই, এমনকী বিদেশেও রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। 

Advertisement

হলদিয়ার বিডিও সৌরভ মাজি বলেন, জুট ব্যাগ তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্রামের মহিলারা এভাবে জব অফার লেটার পাচ্ছেন, এটি গর্বের বিষয়। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ছাড়াও স্নাতক মহিলারাও ওই ট্রেনিং নিয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, হলদিয়া ব্লকের একটি হস্তশিল্প সংস্থা মহিলাদের ওই কাজ দিচ্ছে। স্থানীয় মহিলাদের বাড়ি থেকে বেশি দূরে যেতে হচ্ছে না। রাজ্য সরকারের কারিগরি দপ্তরের উদ্যোগে উৎকর্ষ বাংলা প্রশিক্ষণ শিবিরের শেষে ওই মহিলাদের শংসাপত্র ও চাকরির অফার লেটার দুই-ই দেওয়া হয়েছে।শংসাপত্র ও জব অফার লেটার তুলে দেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৌমিতা ঘোড়াই, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব শিবনাথ সরকার, পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ অলোকরঞ্জন দাস, স্বামী শুদ্ধানন্দজি মহারাজ প্রমুখ। ব্লকের উৎকর্ষ বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজার শুভজিৎ দাস বলেন, হলদিয়া ব্লকে পাঁচটি উৎকর্ষ বাংলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এন্টারপ্রিনিউয়ারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, প্লাস্টিক মোল্ডিং, টেলারিং ছাড়াও জুট ব্যাগ তৈরির ট্রেনিং চলছে ওই কেন্দ্রগুলিতে। জুট ব্যাগ ট্রেনিং নিতে মহিলারা খুবই আগ্রহী। ব্রজলালচকে হলদিয়া গেটের কাছে শ্যামা জুট প্রোডাক্ট নামে একটি সরকারি নথিভুক্ত কেন্দ্রে ওই ট্রেনিং চলছে। বিভিন্ন ব্লকের মহিলারা ওই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। মহিলাদের ৩৯০ঘণ্টা বা সাড়ে তিন মাসের ওই ট্রেনিং দিচ্ছেন মিনতি মাইতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এমএসএমই ও জুট বোর্ডের সঙ্গে দক্ষ প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত। নিজেই গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর করতে প্রায় ২০ বছর আগে গড়ে তুলেছেন শ্যামা জুট প্রোডাক্ট নামে হস্ত ও কুটিরশিল্প সংস্থা। তাঁকে প্রশিক্ষণ ও উৎপাদিত সামগ্রী বাজারজাত করতে সহযোগিতা করেন তাঁর স্বামী অজয়কুমার মাইতি। অজয়বাবু বলেন, প্রায় চার মাস ট্রেনিংয়ের পর ২৮ জন মহিলাকে জব অফার লেটার দেওয়া হয়েছে। এরপর হলদিয়ার ব্লকের বজ্রলালচকে ওয়ার্কশপে সপ্তাহে ছ’দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মহিলারা কাজ করবেন। পারিশ্রমিকও পাবেন। দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৩ জন মহিলা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাঁরা দক্ষ হয়ে উঠলে আয়ও বাড়বে, কাজের সুযোগ বাড়বে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ