হিমি মিত্র রায়: খবরের কাগজটা মুখের সামনে ধরা। কাগজের কোণাটা একটু হাওয়ায় উড়তেই যা দেখার দেখে ফেলে অরিন্দম। এখন এক হাত দিয়ে বুকের বাঁদিক চেপে ধরে অন্যহাত দিয়ে এক কানে আঙুল দিতে হবে, তাতে যদি কিছুটা রক্ষে পাওয়া যায়। কারণ সোফা থেকে উঠে বেসিন পর্যন্ত যেতে যেতে অদিতি ঠিক আরশোলাটা দেখে ফেলবে। যা ভেবেছে তাই। প্রথমে হাত মোছার তোয়ালে রাখার আংটাটার কাছে আরশোলাটা দেখতে পায়নি অদিতি। ওটা একটু শুঁড় নাড়াতেই দেখতে পেয়ে চমকে উঠে চিল চিৎকার করে রুদ্ধশ্বাসে দৌড়ে পালাতে গিয়ে টেবিলের কোণায় খেল একটা জবরদস্ত গুঁতো। কিন্তু ওতে ভ্রূক্ষেপ নেই অদিতির। প্রচণ্ড চিৎকারে বাড়ি মাথায় করে পাগলের মতো অঙ্গভঙ্গি করা শুরু করল। রোজকার দৃশ্য যদিও, এখন আর অবাক হয় না অরিন্দম।
দৌড়ে গিয়ে বেডরুমে ঢুকে দরজাটা ধাম করে বন্ধ করে দিল ও। রিয়া পড়া ছেড়ে উঠে এল পাশের ঘর থেকে।
—উফ! পড়ার সময় এত বিরক্ত করলে ভালো লাগে? বাবা তুমি কিন্তু মাকে বোঝাও, দিস ইজ টু মাচ নাও! অসহ্য লাগে।
আরশোলাটা চটি দিয়ে মেরে জানলা দিয়ে ফেলে গজগজ করতে করতে হাত ধুয়ে নিজের ঘরে চলে গেল ও।
বোঝানোর আর কিছুই বাকি নেই সেটা অরিন্দমের চেয়ে কে বেশি ভালো জানে। বিয়ের পর থেকে দেখে ক্লান্ত। লোকের ভয়-ভীতি এসব সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে। কিন্তু অদিতির সেসবের বালাই নেই। উল্টে দিনে দিনে বাড়াবাড়ি চরম সীমায় পৌঁছে যাচ্ছে। একজন চল্লিশ বছরের মহিলা আরশোলার ভয়ে জেরবার, ভাবা যায়! কতরকম ভাবে যে বোঝানো হয়েছে বলার নয়। এমনভাবেও বসে বুঝিয়েছে যে, তোমার সাইজ আর ওই নিরীহ খুদে প্রাণীটার সাইজ মিলিয়ে দেখেছ কখনও? ওইটুকু প্রাণীটা কী ক্ষতি করবে তোমার বল তো? কামড়ে খেয়ে ফেলবে? হাঙর নাকি! আশ্চর্য!
সব সময়ের মতো কোনও উত্তর দেয় না অদিতি। এমনিই ও চুপচাপ। আর এ প্রসঙ্গেও বরাবরই চুপ করে গালে হাত দিয়ে বসে থাকে অন্যদিকে তাকিয়ে। ভাবটা এমন যেন কিছুই শুনতে পাচ্ছে না। রাগ এবং মুখে মুখে তর্ক কখনও করে না ও। কিন্তু আরশোলা দেখলে চিৎকারে বাড়ি মাথায় করে।
তাতান ক’দিনের জন্য কাকার কাছে এসেছে শিলিগুড়ি থেকে। ওর কী সব যেন অ্যানিমেশন টেকনোলজি সেন্টারের খোঁজখবর নেওয়ার আছে কলকাতায়। শান্ত কাকিমণির চিৎকারে যার পরনাই অবাকও হয়েছে ভীষণ।
অরিন্দম হেসে ওকে বলল, ‘কী রে কী বুঝলি? এরকম কাকিমণি দেখেছিস আগে?’
—ডেঞ্জারাস তো! তোমাদের হার্ট অ্যাটাক
হয় না?
—হাহাহাহা! কতবার হয়েছে। এখন অভ্যেস হয়ে গেছে।
—কাকিমণি কতক্ষণ দরজা বন্ধ করে এভাবে থাকবে?
—যখন শুনবে ওই ব্যাটার পঞ্চত্ব প্রাপ্তি ঘটেছে তখন বেরিয়ে আসবে।
—সাংঘাতিক তো, এত ভয়?
—হুম, বহু বুঝিয়ে কাজ হয়নি।
‘বেরিয়ে এসো! অনেক তো হল! গেছে ওটা,’
গলা উঁচু করে বলল অরিন্দম।
খট করে দরজা খোলার আওয়াজ হল শোবার ঘর থেকে।
অদিতি বেরিয়ে এল, উস্কো খুস্কো চুল, অবিন্যস্ত পোশাক, চোখে আতঙ্কের তীব্র ছাপ। আশপাশে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, ‘সত্যি?’
—হ্যাঁ রে বাবা, রিয়া মেরেছে।
অদিতির সম্ভবত বিশ্বাস হল না কথাটা। এদিক-ওদিক চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চলছে তাও।
—মঙ্কার বিয়ের বাজার করতে আজ তাহলে তুমি দিদিদের সঙ্গে যাচ্ছ না তাই তো? বড়দি ফোন করলে বলে দিচ্ছি, তুমি সময়মতো রেডি হতে পারবে না।
টনক নড়ল অদিতির। আস্তে করে বলল, যেমন ধীরে ধীরে বলে সব সময়, ‘না, আমি
যাব তো।’
দুই
—অ্যাই! বরণ ডালাটা শিগগির নে, ওরা কিন্তু মোড়ের মাথায় চলে এসেছে! আর এক মিনিট লাগবে গেট অবধি পৌঁছতে। সবাই তাড়াতাড়ি কর, যথেষ্ট সাজগোজ হয়েছে, এরপর বরযাত্রীরা তোদের কেউ চিনতে পারবে না।
উঁচু গলায় কথাগুলো বলে দিয়েই প্রমিতা শাড়ির আঁচলটা ঠিকঠাক করে নিচ্ছে। শেষ মুহূর্তের টাচ আপ। ওপাশে রিনা মেঝে থেকে বরণ ডালাটা তুলে ওর হাতে গুছিয়ে দিয়ে বলল, ‘দেখ বউদি, সাবধানে হাঁটবে, কুচিগুলো উপরে করে দিয়েছি তাও। হোঁচট খেওনি যেন, শাশুড়ি বলে কতা!’
ননদকে সঙ্গে নিয়ে বর বরণ করতে গেটের কাছে এসে দাঁড়াল অদিতি। খুব উচ্ছ্বাস ওর কোনও কালেই ছিল না। ধীরস্থির প্রকৃতির ছোট থেকেই। বিয়েতেও চুপচাপ নিঃশব্দে বাড়ির কাজ করে গেছে। ননদের একমাত্র মেয়ে মঙ্কার বিয়ে আজ। অনেকদিনের পরিচিত ওঁরা, একসঙ্গে চাকরি করে। ভালো ছেলে, ভদ্র সভ্য নম্র। এ বাড়ির সবার সঙ্গে বেশ গোছানো সম্পর্ক।
বাড়ির অন্যান্য মহিলারা ননদকে ঘিরে গেটের কাছে দাঁড়ানো। বাজনা বাজছে পাশে বর আসছে সুবেশিত গাড়ি করে। ধীরে ধীরে গাড়ি এসে দাঁড়ায় গেটের কাছে। গাড়ির দরজা খুলে হাসিমুখে দাঁড়ায় পাত্র। ঘিয়ে রঙের সূক্ষ্ম কাজ করা শেরওয়ানি আর লাল পাগড়িতে মঙ্কার বরকে ভারী সুপুরুষ লাগছে দেখতে।
অদিতির নিজের বিয়ের কথা মনে পড়ে যায়। ওর বিয়ের সময় এসব কিছুই হয়নি। শুধু দুটো সইসাবুদ করে অফিসিয়ালি ম্যারেজ হয়ে গিয়েছিল। এই জাঁকজমক, আলো বাজনা দেখলেই মনটা আনচান করে ভীষণ। মনে হয় একবার যদি ওভাবে বিয়ে করা যেত। মা জন্ম দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেই চলে গেল প্রেমিকের সঙ্গে দূর দেশে, ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে ঘর করতে। বাবা একলা পুরুষ মানুষ কি পারে মেয়েকে সামলাতে? নিজেকে সামলোনার ব্যাপারটাও ছিল। তাই এল নতুন বউ। অদিতির কাছে মায়ের সংজ্ঞা তৈরি করল ওর নতুন মা। মায়েরা এমন হয় নাকি! বন্ধুদের মায়ের সঙ্গে ওর নতুন মাকে কখনওই মেলাতে পারত না। কিন্তু তার জন্য কোনও প্রশ্ন করেনি কাউকে।
হাসি হাসি মুখ সবার, ওদিকে আলোর রোশনাই আর তুবড়ি, ফুলঝুরি, বাজনা। বড়দিভাই বরণডালা উঠিয়ে ছেলেকে বরণ করতেই যাবে অমনি স্থির হয়ে যায় অদিতির দু’চোখ। হাসি মুখটা পাল্টে যায় একরাশ ভয় আর ঘৃণায়। বরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ওর ছোট বোনের তুতে রঙের কাঞ্জিভরম এর কুচির কাছে একটা আরশোলা!
চোখ দুটো জোরে বন্ধ করে হাত পা ছুড়ে চিৎকার করে দৌড়তে শুরু করে অদিতি। জুতো কোথায় খেয়াল নেই। খালি পায়ে দৌড়তে থাকে। কিছু একটা পড়ার শব্দ হল। রিয়া কিছুক্ষণ ‘মা মা’ করে ছুটে ডাকতে থাকে তারপর থেমে যায়। পিছনে তাকিয়ে দেখে বড় পিসির হাতের বরণ ডালা মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে।
তিন
—বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে ডাক্তারবাবু! কোনও সুস্থ মানুষ এইরকম আচরণ করতে পারে না। কী কী সিনক্রিয়েট করে তা আপনাকে বলে শেষ করা যাবে না।
ডক্টর বিশ্বাস হাসলেন। টেবিল থেকে ফাউন্টেন পেনটা তুলে আঙুলে চেপে ধরে বললেন, মানুষ সুস্থ থাকলে কি ডাক্তারের কাছে আসে?
—না মানে...।
—আপনাদের শরীর অসুস্থ হলে আপনারা তো ডাক্তারের কাছে যান। আর যদি মনের অসুখ হয়?
—আসলে ডাক্তারবাবু...।
ডক্টর বিশ্বাস আবার হাসলেন। বললেন ‘কাতসারিদা ফোবিয়া। কাকে বলে জানেন?’
অরিন্দম দু’দিকে মাথা নাড়াল। অদিতি মাথা নিচু করে চেয়ারে বসে রয়েছে।
—ফিয়ার অব ককরোচেস। আরশোলাকে ভয়। তাঁরা মনে করেন আরশোলার জন্য তাঁদের প্রাণ সংশয় হতে পারে।
—মানে এর কোনও চিকিৎসা নেই ডাক্তারবাবু?
—আমি কিছুক্ষণ ওঁর সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলতে চাই। ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড আপনি যদি একটু বাইরে অপেক্ষা করেন।
অরিন্দম একটু জোরেই চেয়ারটা ঠেলে দাঁড়াল, ডাক্তারবাবুকে বিরক্তিটা না দেখালেই হতো তবুও নিজেকে আটকাতে পারল না।
জামাইবাবুর কথায় একবারেই রাজি হয়ে গিয়েছিল ও। যখন জামাইবাবু বলেছিল, ‘অ্যাপয়েন্টমেন্টটা ইমিডিয়েট ফিক্স কর অরিন্দম। নাম্বারটা লেখ আমি বলছি। আমার এক কলিগের অদ্ভুত একটা মানসিক সমস্যা হয়েছিল। ডক্টর বিশ্বাসের কাছে যাওয়ার ফলে ওর সেই সমস্যাটা একদম চলে গেছে রেগুলার কাউন্সেলিং করে।
আধঘণ্টা হয়ে এল প্রায় দরজা বন্ধ। অবশেষে দরজা খোলার শব্দ এল মৃদু। বেরিয়ে এল অদিতি।
চার
আর পাঁচটা সাধারণ রোববারের মতো আজকের দিনটা। দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার পর খবরের কাগজে চোখ রেখে লিকার চায়ে চুমুক দিতে দিতে ডাইজেস্টিভ বিস্কুটটা দাঁতে কাটল অরিন্দম। রিয়া উঠেই হেলথ ড্রিঙ্কের গ্লাস নিয়ে পড়ার টেবিলে বসে পড়েছে। এবেলায় মেয়েকে কখনওই বলতে হয় না, বেশ সিরিয়াস। অদিতি রান্নাঘরে লুচি ভাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ড্রয়িংরুম থেকে দেখা যাচ্ছে।
গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে অদিতি নিজের মনে কাজ করছে। অরিন্দম একবার তাকিয়ে আবার চোখ সরাতেই দেখতে পেল রান্না ঘরের দরজার চৌকাঠে আরশোলাটা। ব্রেকফাস্ট শিকেয় উঠবে ভেবে নিজেই উঠে যাচ্ছিল আরশোলাটাকে কিক মারতে। কিন্তু তার আগেই অদিতির রণচণ্ডী মূর্তি দেখে ওখানেই হাঁ করে দাঁড়িয়ে পড়ল ও। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে অদিতি ঝাড়ুটা নিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিষ্ঠুর সৈনিকের মতো আরশোলাটাকে মারতে শুরু করল। শান্তশিষ্ট অদিতির মুখে ফুটে উঠল একদম অন্য এক হিংস্র অদিতি। ওটাকে পিটিয়ে ধুলিসাৎ করে বাইরে ফেলে দিয়ে এল এবং খুব শান্তভাবে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুল। এরপর গুনগুন করে ‘আলোকের এই ঝর্ণাধারায় ধুইয়ে দাও...’ গাইতে গাইতে লুচি ভাজতে চলে গেল। সম্পূর্ণ নীরব দর্শক হয়ে রয়ে গেল অরিন্দম। এই অবর্ণনীয় ম্যাজিক কীভাবে সম্ভব হল তার বিন্দুমাত্র লেশ পেল না।
এরপর থেকে যতবার যেখানে আরশোলা দেখেছে ততবারই হাতের সামনে যা পেয়েছে, জুতো, ঝাঁটা সব দিয়ে পিটিয়ে মেরে এখন অদিতির শান্তি হয়। খুব সামান্যই ওষুধ দিয়েছিলেন ডঃ বিশ্বাস। তবে কাউন্সেলিংটা রেগুলার করতে যেত অদিতি। এখন সেসব বন্ধ। ডক্টর বিশ্বাস বলে দিয়েছিলেন অদিতিকে এ ব্যাপারে কোনও
প্রশ্ন না করতে, তাই অরিন্দম ওকে কিছুই
জিজ্ঞেস করেনি।
পাঁচ
সেদিন এক বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে হঠাৎ দেখা ডক্টর বিশ্বাসের সঙ্গে। সৌম্য দর্শন ভদ্রলোকের মুখে সব সময় একটা হাসি লেগে থাকে। অরিন্দম প্রায় দৌড়ে চলে গেল তাঁর কাছে।
—এক্সকিউজ মি ডক্টর, আমায় চিনতে পারলেন?
—আপনি...।
—আপনার পেশেন্ট অদিতি মিত্রের হাজবেন্ড, ওই যে আরশোলার ভয় পেত যে।
—ইয়েস, ইয়েস মনে পড়েছে।
—ডাক্তারবাবু, আপনি কী এমন ট্রিটমেন্ট করে এই অসাধ্য সাধন করলেন বলবেন? অদিতি তো পুরো পাল্টে গেল। যে মেয়ে আগে আরশোলা দেখলে আতঙ্কে পাগল হয়ে যেত, সে এখন রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে আরশোলা পিটিয়ে মারছে! কফির কাপে শেষ চুমুক দিয়ে ওটাকে ডাস্টবিনে ছুড়ে দিলেন ডঃ বিশ্বাস। তারপর বললেন, ‘আপনার স্ত্রী আরশোলাকে ভয় পেত না তো!’
অরিন্দমের মুখ হাঁ হয়ে গেল। কী বলতে চাইছে লোকটা!
—হ্যাঁ। আরশোলার গেটআপে ওর সৎমাকে ভয় পেত।
—মানে?
—অবাক হওয়ার মতোই। কিন্তু মেডিক্যাল ফাইলেই এমন হিস্ট্রি আরও আছে। অদিতি ছোট থেকে মায়ের আদর পায়নি, বাবারও নয়। যে সৎমাকে জন্মের পর থেকে দেখেছে সে ছোট থেকেই মানসিকভাবে অত্যন্ত অত্যাচার করে গেছে ওকে। দিনের পর দিন ওকে বিধ্বস্ত করেছে নোংরা, খারাপ কথা বলে। তারপর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোনওরকম পাত্রস্থ করেছে। আপনি জানতেন সেগুলো?
—না, মানে অল্পবিস্তর। ও তো কখনও তেমন ভাবে...।
—চুপচাপ, শান্ত, নির্বিবাদী অদিতি কখনও প্রতিরোধ, প্রতিবাদ করতে পারেনি। সারাক্ষণ ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে থাকা মেয়েটির মনের মধ্যে কিন্তু সৎমার ওপর তীব্র রাগ, ঘৃণা, প্রতিহিংসা জন্মাতে থাকে। কিন্তু সামাজিক অবস্থান তাঁকে কোনও খারাপ কিছু করতে বাধা দেয়। মনের মধ্যে পুষে থাকা ভয় ও রাগ দুটোরই সহাবস্থান চলছিল অদিতির মনে। কোনও না কোনওভাবে রাগটাকে বের করতেই হতো একসময়। মাধ্যমটা কিন্তু যেকোনও কিছু হতে পারত মিস্টার মিত্র। আপনারা বেঁচে গেছেন যে, আরশোলা সেই মাধ্যমের কাজ করেছে। কারণ আরশোলাকে পিটিয়ে মেরে ওর মনে সৎমার রাগটা প্রশমিত করে ও শান্তি
পাচ্ছে, আরাম হচ্ছে ওঁর। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাবে ও। এই অস্থির সময়টা পার হয়ে যাবে।
ডক্টর বিশ্বাসের হাসি হাসি মুখটা আর কোনওদিন ভুলতে পারবে না অরিন্দম। সত্যিই তো, অদিতির প্রাণ খোলা হাসি আগে দেখেনি ও। সব সময় নিজের মধ্যেই থাকতে দেখেছে ওকে। কারও কারও চাপা স্বভাব হয় এমনটা ভেবেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। ওর মধ্যে একটা পজিটিভ পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছে তো বটেই। কফি কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে পায় একটু দূরে অদিতি খিলখিলিয়ে হাসছে, হাতে বাদাম শরবতের গ্লাস। আলতো হাসির রেখা ফুটে উঠল অরিন্দমের মুখেও।