সংবাদদাতা, দিনহাটা: বাড়ির উঠোনে গর্ত খুঁড়ে বস্তায় ভরে লুকানো, আবার ঘরে টিনের ট্রাঙ্কে গচ্ছিত। এত আড়াল করেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হল না। শুক্রবার রাতভর অভিযানে দিনহাটা থানার পুলিস বাজেয়াপ্ত করল ২৬৫ কেজি গাঁজা। কোচবিহার জেলার দিনহাটার পেটলার রাজাখোরা গ্রামে গৌতম মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়েছে এলাকায়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সূত্রে খবর আসে রাজাখোরা গ্রামের ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে গাঁজা মজুত করা হচ্ছে। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার গভীর রাতে দিনহাটা থানার পুলিসের একটি দল অভিযানে নামে। রাতভর তল্লাশির পর বাড়ির উঠোনের মাটি খুঁড়ে বস্তা ভর্তি গাঁজা এবং ঘরে টিনের ট্রাঙ্ক থেকে আরও গাঁজা উদ্ধার হয়।
অভিযানের খবর কানে পৌঁছতেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত গৌতম মণ্ডল। বর্তমানে তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস। দিনহাটা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু হয়েছে।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দিনহাটা মহকুমা পুলিস আধিকারিক ধীমান মিত্র, দিনহাটা থানার আইসি জয়দীপ মোদক সহ একাধিক শীর্ষ কর্তা। অভিযান শেষে ধীমান মিত্র বলেন, নিষিদ্ধ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজকে এই মারণব্যাধি থেকে মুক্ত করতে পুলিস সর্বদা সচেষ্ট।
পুলিসের দাবি, উদ্ধার হওয়া গাঁজা স্থানীয় এলাকায় ব্যবহারের জন্য নয়, বরং পাচারচক্রের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে অন্য রাজ্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই মজুত রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ কিংবা উত্তর ভারতে পাচার করা হয়।
দিনহাটা মহকুমা আগে থেকেই মাদক পাচার রুট হিসেবে কুখ্যাত। গত এক দশকে একাধিকবার দিনহাটা, সিতাই, সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তবে এবার যে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার হয়েছে, তা সাম্প্রতিক কালে অন্যতম বড় সাফল্য বলে দাবি পুলিসের।