নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল নেশামুক্তি কেন্দ্র। স্বাস্থ্যদপ্তর তদন্তে যেতেই সামনে এল ভয়াবহ চিত্র। পরিস্থিতি দেখে আঁতকে উঠলেন চিকিৎসকরা। তদন্ত কমিটিকে ফাঁকি দিতে তালাবন্ধ একটি ঘরে রাখা হয়েছিল ১০জন মহিলাকে। ছাদে দরজা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল আরও ১৬ জনকে। পাশের বাড়ির ছাদ থেকে নেশামুক্তি কেন্দ্রের ছাদে গিয়ে ঘটনা টের পান পুলিস ও স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা। অভিযোগ, এখানকার আবাসিকদের উপর চরম অত্যাচার করা হয়। সমস্ত ঘটনার ভিডিওগ্রাফি করার পাশাপাশি সেখানে থাকা আবাসিকদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনায় বরানগরজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুরসভার সিআইসি (স্বাস্থ্য) রামকৃষ্ণ পাল বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বরানগরের নিয়োগীপাড়া রোডে কে জি স্কুলের পাশে একটি বাড়িতে বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে নেশামুক্তি কেন্দ্র। এই কেন্দ্র নিয়ে নিয়মিত অভিযোগ আসায় জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিছু দিন আগে সেই কমিটির সদস্যরা ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রে গেলেও তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। শুক্রবার পুলিস নিয়ে তাঁরা ফের সেখানে হাজির হন। পুলিসের চাপে দরজা খুলতে বাধ্য হয় তারা। দোতলার একটি ঘরে ২০জন আবাসিকের খোঁজ মেলে। তাঁরা ছাড়া আর কেউ ওই কেন্দ্রে নেই বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ছাদে যাওয়ার চাবি দেওয়া হয়নি পুলিসকে। এমন সময় রাস্তায় থাকা এক পুলিসকর্মী ছাদে কয়েকজনকে দেখতে পেয়ে সন্দেহবশত পাশের বাড়ির ছাদে ওঠেন। সেই ছাদ থেকে একে একে চিকিৎসক ও পুলিসকর্মী নেশামুক্তি কেন্দ্রের ছাদে চলে আসেন। এসে তাঁরা দেখেন, ১৬ জন আবাসিক রয়েছেন ছাদে। নীচের বন্ধ ঘর খুলিয়ে আরও ১০ জন তরুণীর হদিশ মেলে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ৪৬ জনকে তিনটি ঘরে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয়েছিল। এই ধরনের কেন্দ্র চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ‘সি সার্টিফিকেট’ও নেই। এখানকার আবাসিক ও কর্মীদের কোনও রেজিস্টার খুঁজে পাওয়া যায়নি। সূত্রের খবর, তদন্তে যাওয়া চিকিৎসকদের ওই কেন্দ্রের তরফে কয়েকজন বলেন, ‘এভাবেই সব জায়গায় চলে। এখানে বন্ধ করলে অন্য কোথাও খুলব।’
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে নেশামুক্তি কেন্দ্রে ছুটে যান পুরসভার সিআইসি রামকৃষ্ণ পাল। পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে তিনি বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। রামকৃষ্ণবাবু বলেন, ‘ভয়ঙ্কর বিষয়। অবিলম্বে পুলিসের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।’ জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সমুদ্র সেনগুপ্ত বলেন, ‘সি সার্টিফিকেট ছাড়া কোনও নেশামুক্তি কেন্দ্র চালানো যায় না। বরানগরের নেশামুক্তি কেন্দ্রটির নানা অনিয়ম নজরে এসেছে। আইন মেনে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।’ ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রের কর্ণধার অভিষেক সিং বলেন, ‘সি সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করা আছে। ট্রেড লাইসেন্স সহ অন্যান্য নথি নিয়ে, নিয়ম মেনেই সব কিছু চালানো হচ্ছে।’