Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

রাজ্য কর্মীদের বকেয়া ডিএ’র ২৫ শতাংশ ৩ মাসে: সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্য কর্মীদের বকেয়া ডিএ’র ২৫ শতাংশ ৩ মাসে: সুপ্রিম কোর্ট
  • ১৭ মে, ২০২৫ ১১:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য খুশির খবর! তাদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিয়ারনেস অ্যালাউন্সের (ডিএ) ২৫ শতাংশ আগামী তিন মাসের মধ্যে দিতে হবে। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সরকারের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, আপাতত ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ’র হিসেব হয়েছে। তার পরিমাণ ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। সেই অর্থের ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মীদের আগামী তিন মাসের মধ্যে দিতে হবে নবান্নকে। শীর্ষ আদালতের এদিনের নির্দেশে প্রায় ১০ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনপ্রাপক উপকৃত হবেন। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, রাজ্য সরকার কী করছে, তা আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জানাতে হবে। বাকি কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতার বিষয়টি নিয়ে শুনানি হবে আগস্টে।

Advertisement

এদিনের শুনানিতে গোড়ায় অবশ্য বকেয়া ডিএ’র ৫০ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার কথা তুলেছিল বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ। কিন্তু প্রবল আপত্তি করেন রাজ্যের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ’র বিরোধিতা করে বলেন, ‘রাজ্য কর্মীদের চাহিদা মেটাতে গেলে সরকারের উপর প্রবল চাপ পড়বে। রাজ্যের কোমর ভেঙে যাবে। সোমবার মামলা শুনুন। আমরা বিস্তারিত হিসেব কষে নতুন তথ্য দিতে পারব।’ যদিও বিচারপতি সঞ্জয় কারোল শুনানির পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘আর নয়, অনেকদিন হয়েছে। (সুপ্রিম কোর্টে ২০২২ সাল থেকে চলছে মামলা)। আপনার অনুরোধ মতো মূল মামলা আপাতত শুনছি না। আগস্ট মাসে শুনানি হবে। তবে তার আগে বকেয়ার ২৫ শতাংশ দিয়ে দিন। বিবাদীরা তো রাজ্য সরকারেরই কর্মী। আপনাদের নিজেদেরই লোক।’ 
শুনানিতে রাজ্যের আর এক আ‌ইনজীবী হুজেফা আহমেদি বলেন, ‘রাজ্য সরকার যে ডিএ দিচ্ছে না, তা তো নয়। ২০০৮ সালে কর্মীরা যে ডিএ পেতেন, তার চেয়ে এখন ১২৫ শতাংশ বেশি পাচ্ছেন। তারপরেও কর্মীদের চাহিদা বছরে দু’বার ডিএ দিতে হবে। কেন্দ্রীয় হারে দিতে হবে। অথচ ডিএ কোনও অধিকার নয়!’ তা শুনে বিচারপতি সঞ্জয় কারোলও কিছুটা একমত হন। বলেন, ‘হ্যাঁ। ঠিকই, ডিএ কোনও সাংবিধানিক বা মৌলিক অধিকার নয়। কিন্তু রোপা (রিভিশন অব পে অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) তো দিতেই হবে। তাই রাজ্য সরকারি কর্মীদের যে মূল দাবি তা পরে বিস্তারিত শোনা হবে।’ কিন্তু রায় যদি আমাদের পক্ষে যায়, তাহলে প্রদত্ত টাকা ফেরত পাব কী করে? রাজ্যের আইনজীবীর এই সওয়ালে বিচারপতি কারোল ক্ষুব্ধ হন। বলেন, ‘তাহলে কি মামলা খারিজ করে দেব?’
মামলা খারিজ হলে বহাল থেকে যাবে হাইকোর্টের রায়। অর্থাৎ তখন বকেয়া ডিএ’র ১০০ শতাংশই দিতে হবে। তাই আর বিতর্ক বাড়াননি রাজ্যের আইনজীবীরা। এদিনের নির্দেশে কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্ল঩য়িজ সহ মোট আট বিবাদীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, পি এস পাটওয়ালিয়ারা খুশি। তাঁদের প্রায় সওয়ালই করতে হয়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ