এবছরে আবেদনকারী আড়াই লক্ষ  মতুয়াকে সিএএ শংসাপত্র: শুভেন্দু
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যের আড়াই লক্ষ মতুয়া আবেদনকারীকে সিএএ শংসাপত্র দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, কমিশনের নিয়ম মেনে আগামী জানুয়ারিতে তাঁদের ভোটার তালিকায় নামও তোলা হবে। রবিবার ঠাকুরনগরে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক গোঁসাই সম্মেলনের মঞ্চ থেকে এমনই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

Advertisement

এর পাশাশপাশি মতুয়া উন্নয়নে একগুচ্ছ আশ্বাসও দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতিতেই ডঙ্কা, উলুধ্বনি আর হাততালিতে মুখর হয়ে ওঠে মতুয়াধাম ঠাকুরবাড়ি। রবিবার হেলিকপ্টারে চাঁদপাড়ায় নেমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের গাড়িতে ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছান তিনি। হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজো দেন। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, বিধায়ক সোমা ঠাকুর ও মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর। পরে নাটমন্দিরে আন্তর্জাতিক গোঁসাই সম্মেলনের মঞ্চে প্রায় ২৫ মিনিট বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। 
মতুয়াদের নাগরিকত্ব প্রদানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে শুভেন্দু জানান, পূর্ববর্তী সরকারের অসহযোগিতার কারণেই রাজ্যে সিএএ কার্যকরে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তাঁর দ্ব্যর্থহীন বার্তা, আড়াই লক্ষ আবেদনের শুনানি করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সিএএ শংসাপত্র দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করারও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী জানুয়ারিতে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের সময় নাগরিকত্ব প্রাপকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। 
এদিকে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়নের জন্য তাঁর দপ্তরে এক আধিকারিক নিয়োগের কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই ঠাকুরনগরের পরিকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। আগামী অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেটে ঠাকুরনগরকে পূর্ণাঙ্গ পুরসভা হিসাবে ঘোষণা করা হবে বলে আশ্বাস তাঁর। ১৫ শয্যার চাঁদপাড়া গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে। প্রয়াত বড়োমা বীণাপাণি দেবীর নামাঙ্কিত হবে সেই হাসপাতাল। সেখানে থাকবে প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র ও নবজাতকদের চিকিৎসার জন্য ইউনিট। বারুণী মেলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন বন্ধ করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, মেলা নিয়ে আর কাউকে আদালতে ছুটতে হবে না। ঠাকুর বাড়িতে বিভাজন করেছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা তা হতে দেব না। ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলাকে ‘জাতীয় মেলা’র মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেব। 
মতুয়া উন্নয়ন বোর্ডের পুনর্গঠন করে আগামী অর্থবর্ষে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মতুয়াধামে সুবিশাল মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা, ট্রাস্টের জমিতে মন্দির তৈরির জন্য রাজ্য সরকারের তরফে দ্রুত স্থপতি পাঠিয়ে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু হবে। তীর্থক্ষেত্র সার্কিট প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে ওই মন্দির। আমি ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে তিনি থাকবেন। আর মন্দিরের উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানানো হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, ‘বনগাঁ, বারাসত বা রানাঘাট জেলে কোনো মতুয়া অথবা শরণার্থী বিনাবিচারে আটকে থাকলে সোমা বোনের মাধ্যমে আমাকে খবর দেবেন। তাঁদের প্রত্যেককেই সসম্মানে জেল থেকে বের করব। জমিসহ বাড়িও করে দেব তাঁদের, যোগিজির মতন।’