সংবাদদাতা, কান্দি: মঙ্গলবার রাতে দুঃসাহসিক চুরি হল ভরতপুর থানার আঙারপুর গ্রামে। জানলার লোহার রড বেঁকিয়ে ঘরে ঢুকে প্রায় ২৫ ভরি সোনার গয়না লুটের অভিযোগ উঠল। গয়না চুরি করে পুকুর পাড়ে বসে সে সব ভাগ বাঁটোয়ারাও করে দুষ্কৃতীরা। তারপর গয়নার ভাঙা বাক্সগুলো সেখানেই ফেলে রেখে পালায়। পুলিস তদন্ত শুরু করলেও বুধবার দুপুর পর্যন্ত দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গ্রামের মড়াপাড়ায় সপরিবারে বাস আজগর আলি শেখের। একেবারে মাঠের দিকের নতুন বাড়িতে থাকেন তাঁরা। তাঁর দুই ছেলের কর্মসূত্রে সৌদিতে থাকেন। বাড়িতে থাকেন দুই বউমা সহ নাতিপুতিরা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁরা সাধারণত বাড়ির একতলার একটি ঘরে রাতে ঘুমোন। কিন্তু গরমের জন্য সোমবার থেকে উপরতলার ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। মঙ্গলবার রাতেও ১১টা নাগাদ সকলে বাড়ির উপরতলায় চলে যান। একতলা ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতীরা জানলার রড বেঁকিয়ে ঢোকে। পরিবারের সদস্য রূপসুদ্দি শেখ বলেন, যা হওয়ার রাত সাড়ে ১১টার পর হয়েছে। কারণ ওইসময় পর্যন্ত আমরা জেগে ছিলাম। তবে সাড়ে ১২টা নাগাদ নীচের তলায় খুটখাট শব্দ হয়েছিল। ভেবেছিলাম গোয়ালঘর থেকে বুঝি শব্দ হচ্ছে। ভোর পাঁচটা নাগাদ জানতে পারি চুরি হয়েছে। পরিবারের কর্তা আজগর বলেন, ভোরবেলায় নীচে নেমে এসে দেখি ভিতর থেকে দরজা লাগানো। অথচ ঘরে কারও থাকার কথা নয়। এরপর বাড়ির পিছন দিকে গেলে দেখা যায়, জানালার তিনটি লোহার রড বেঁকানো। পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দু’টি আলমারি ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। ভিতরের গয়নার বাক্সগুলি উধাও। পরে দিনের আলো পরিষ্কার হলে বাড়ির কিছুটা দূরে পুকুরপাড়ের জঙ্গলে গয়নার বাক্সগুলি পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই বাড়ির ছোট বউমা রানি বিবি বলেন, আমাদের বাড়িতে প্রায় ২৫ ভরি মতো সোনার গয়না ছিল। তার মধ্যে আমাদের পরিবারের এক যুবতীর বিয়ের জন্য ১০ ভরি গয়না বানিয়ে রাখা হয়েছিল। সেগুলি সব নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা।
ওই পুকুরপাড়ে নিজেদের মধ্যে ভাগযোগ করেছে। এদিন পুকুরপাড়ে গয়নার বাক্স দেখার জন্য গ্রামের মানুষ ভিড় জমান। আলুগ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জাহিরুল শেখ বলেন, চুরির ধরন দেখে মনে হচ্ছে এই বাড়িতে দুষ্কৃতীদের আসা যাওয়া ছিল। কারণ উপরতলায় ঘুমোনোর বিষয়টি খুব কাছের মানুষ ছাড়া কেউ জানতেন না। পরিবারটি পথে বসেছে। তবে পুলিসের উপর ভরসা রয়েছে আমাদের। ভরতপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। গ্রামের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।