নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বিডিও অফিসের কর্মী পরিচয় দিয়ে এবার সাইবার প্রতারণার ঘটনা ঘটল জলপাইগুড়িতে। অভিযোগ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা ঢুকবে বলে ফোন আসে। তারপর বলা হয়, কেওয়াইসি আপডেট করতে হবে। কেওয়াইসি আপডেটের জন্য কী করতে হবে, ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তারও নির্দেশ আসে। সেইমতো কিছু সংখ্যা ডায়াল এবং লিঙ্কে ক্লিক করতেই অ্যাকাউন্ট থেকে ২৪ হাজার টাকা উধাও হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মোবাইলে পরপর মেসেজ ঢুকতেই জলপাইগুড়ির মণ্ডলঘাট পঞ্চায়েতের কাদোবাড়িহাটের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা পরিতোষ বর্মন বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপরই ওই কৃষক ছুটে যান পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে। সব শুনে প্রধান তাঁকে বিষয়টি পুলিসকে জানানোর পরামর্শ দেন। সেইমতো বুধবার জলপাইগুড়ি সাইবার থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পরিতোষ বর্মন ও তাঁর স্ত্রী সঞ্চিতা রায় বর্মন। গোটা ঘটনায় স্তম্ভিত তাঁরা।
এদিন থানায় অভিযোগ জমা দিয়ে বেরিয়ে এসে পরিতোষ বর্মন বলেন, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আমাদের নাম রয়েছে। সার্ভেও হয়েছে। সেকারণে বিডিও অফিসের কর্মী পরিচয় দিয়ে ফোন আসায় বিশ্বাস করেছিলাম। তারপর যখন ফোনে বলা হয়, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের ঘরের টাকা ঢুকবে, তখন সেই বিশ্বাস আরও গভীর হয়। প্রথমে ভয়েস কল করলেও পরে ভিডিও কল করে বর্তমানে আমার বাড়িঘরের অবস্থা কেমন তা দেখাতে বলা হয়। কিন্তু ভিডিও কলে অন্যপ্রান্তে কারও মুখ দেখা যাচ্ছিল না। মোবাইলের খুঁটিনাটি বিষয় অত বুঝি না। যার কারণে, ফোনের অপর প্রান্ত থেকে যেমনটা বলছিল, সেটাই করে ফেলি। আর তারই জেরে অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। জমা পড়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করেছে সাইবার থানার পুলিস। বিষয়টি জানার পর খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জলপাইগুড়ি সদরের বিডিও মিহির কর্মকার। তিনি বলেন, বিষয়টি ঠিক কী হয়েছে পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করছি। পরিতোষ বর্মনের স্ত্রী সঞ্চিতা রায় বর্মন বলেন, আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে স্বামীর মোবাইল নম্বর দেওয়া। ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই টাকা উধাও হয়েছে। ঘটনার সময় আমিও পাশে ছিলাম। কিন্তু এভাবে যে প্রতারণার শিকার হব আমরা, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি। পরিতোষের দাবি, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ প্রথমে একবার কল এসেছিল। কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি প্রথমে তা রিসিভ করতে পারেননি। পরে মিসড কল দেখে ঘুরিয়ে ফোন করেন। ভয়েস কলে কয়েক মিনিট কথা বলার পরই বলা হয়, ভিডিও কল করতে। ভিডিও কলে বাড়িঘরের ছবি দেখানোর পরই বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা ঢোকানোর অছিলায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের কেওয়াইসি আপডেটের কথা বলে কিছু সংখ্যা ডায়াল করতে বলা হয়। মণ্ডলঘাট পঞ্চায়েতের প্রধান সীতেশ রায় বলেন, ওই দম্পতি আমার কাছে এসেছিলেন। গোটা বিষয়টি জানিয়েছেন। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ওঁদের নাম ওয়েটিং লিস্টে আছে। কিন্তু তাঁদের নামে টাকা আসার বিষয়টি আমার জানা নেই।