Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আট ঘণ্টার মজুরি দিয়ে ২৪ ঘণ্টা কাজ, রেলের রিপোর্ট তলব লেবার কমিশনের

দূরপাল্লার ট্রেনে এসি কামরার রক্ষণাবেক্ষণ, সাফ-সুতরো করার কাজ করেন যে ঠিকা শ্রমিকরা, তাঁরা রেলের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন।

আট ঘণ্টার মজুরি দিয়ে ২৪ ঘণ্টা কাজ, রেলের রিপোর্ট তলব লেবার কমিশনের
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তিওয়ারি, আসানসোল: দূরপাল্লার ট্রেনে এসি কামরার রক্ষণাবেক্ষণ, সাফ-সুতরো করার কাজ করেন যে ঠিকা শ্রমিকরা, তাঁরা রেলের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। শুধু সরব হওয়াই নয়, তাঁরা রেলেব বিরুদ্ধে নালিশ ঠুকেছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট লেবার কমিশনের অফিসে। কিন্তু কেমন সেই বঞ্চনা? জানা গেল শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেই। 

Advertisement

রেলের এই ঠিকা শ্রমিকদের পোশাকি নাম ‘অন বোর্ড হাউস কিপিং স্টাফ’। ট্রেনের সম্পূর্ণ যাত্রাপথে তাঁদের কাজ করতে হয়। ২৪ ঘণ্টার সেই যাত্রাপথ হলেও মজুরি মেলে আট ঘণ্টারই। অভিযোগ, বাকি সময়টা রেলের জন্য ফাইফরমাস কাটতে হয়। শুধু তাই নয়, কোনও যাত্রী যদি সাফাই নিয়ে ‘১৩৯’ নম্বরে একটাও অভিযোগ করে দেয়, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেই ঠিকা শ্রমিককে ১০ থেকে ১৫ দিন সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়। যার জেরে শ্রমিকরা দূরদূরান্তে ট্রেনে করে ২৪ ঘণ্টা সাফাই করতে করতে গেলেও মাসের শেষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা রোজগার করেন। এনিয়ে চরম ক্ষোভ রয়েছে শ্রমিক মহলে। 
দীর্ঘ বঞ্চনা সহ্য করে এবার তাঁরা প্রতিবাদে নেমেছেন। কেন্দ্রীয় লেবার কমিশনে রেলের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। কলকাতার নিজাম প্যালেসে অ্যাসিস্টেন্ট লেবার কমিশনের অফিসে মামলা করেছে সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে কনট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়ন। তাঁদের অভিযোগ, সাউথ ইস্টার্ন রেলের বিরুদ্ধে। নিজাম প্যালেসে এই মামলার একাধিক শুনানি হয়েছে। ৬ আগস্ট রেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ইউনিয়নের অভিযোগগুলির বিস্তারিত রিপোর্ট দিয়ে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। ১৬ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিনই তা রেলকে জমা করতে হবে। কমিশন জানতে চায়, শ্রম আইন ভেঙে কীভাবে আট ঘণ্টার মজুরিতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করানো হচ্ছে। 
এনিয়ে সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি আমাদের আইনি বিভাগ দেখছে। লেবার কমিশনের নির্দেশ মতো আমরা পদক্ষেপ করছি। 
সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে কনট্রক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক শেখ নাসিরুদ্দিন বলেন, আমাদের বঞ্চনা বলে শেষ করা যাবে না। প্রথমত, রেল আমাদের ওভারটাইম দিচ্ছে না। সামান্য অভিযোগে সাসপেন্ড করে দিচ্ছে। রেলের এই বঞ্চনা দেখে ঠিকা সংস্থাগুলিও বঞ্চনা করছে। অধিকাংশ শ্রমিকের পিএফ ও ইএসআই জমা হয় না। যে মজুরি আমাদের জন্য ধার্য করা হয়েছে তার অর্ধেক দেওয়া হয়। এক একজন শ্রমিককে ৩০০-৩৫০ টাকা মজুরিতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। 
কেন্দ্রীয় সরকারের এক মন্ত্রকের এহেন শ্রমিক বঞ্চনায় রীতিমতো শোরগোল পড়েছে। আগে এই বিভাগে কাজ করতেন রেলের স্থায়ী শ্রমিকরা। স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে দিয়ে পুরো পরিষেবাটি বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর শ্রমিকদের লাগামছাড়া বঞ্চনার অভিযোগ উঠছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার শ্রম কোড চালু করে আট ঘণ্টার কাজের সময়সীমা ১২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব রেখেছে। কিন্তু তার আগেই রেল ২৪ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নজির সৃষ্টি করছে বলে বিরোধীরা কটাক্ষ ছুড়ে দিচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ