নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক, মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম: শনিবার নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় বাদ পড়েছে প্রায় ২৩ হাজার ভোটারের নাম। এখনও ১ লক্ষ ৯০ হাজার ভোটার বিচারাধীন। উল্লেখযোগ্যভাবে তাঁদের অধিকাংশের নাম ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে ছিল। বিপুল সংখ্যক ভোটার অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে থাকায় বুথ লেভেল অফিসাররা উদ্বিগ্ন। এলাকায় এনিয়ে তাঁদের উপর চাপ বাড়বে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ভোটার সংখ্যা ৪১ লক্ষ ৪১ হাজার ৭৯৩ জন। চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়েছে সাড়ে তিন হাজার ভোটারের নাম। তবে, ৮০ হাজার ভোটার এখনো বিচারাধীন। তারমধ্যে নন্দীগ্রাম বিধানসভায় আছেন ১২ হাজার ৬৩৩ জন। স্থানীয় কাঞ্চননগর দিদারুদ্দিন বিদ্যাভবনের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ৯০ বছর বয়সী শেখ আবদুদ দাইয়ানও বিচারাধীন ভোটার। তিনি একজন পেনশন প্রাপক। পাসপোর্ট আছে। তবুও বিচারাধীন ভোটার। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের মহম্মদপুরের বুথ লেভেল অফিসার দেবাশিস পাত্র বলেন, আমার বুথে মোট ভোটার ৯৩৭ জন। তারমধ্যে বিচারাধীন ১০১ জন। তাঁদের অধিকাংশের ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম ছিল।
এই জেলায় খসড়া ভোটার তালিকায় বাদ গিয়েছিল এক লক্ষ ৪১ হাজার ৯৩৬ জনের নাম। ফাইনাল লিস্টে বাদ গিয়েছে আরও সাড়ে তিন হাজার। বিচারাধীন ভোটারদের নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। ভোটাররা চাইছেন, যাচাইয়ের কাজ দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল বলেন, আমাদের জেলায় ৮০ হাজার ‘অ্যাডজুডিকেশন’ ভোটার আছেন। বাদ গিয়েছে সাড়ে তিন হাজার নাম।
এদিন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ১৮ হাজার ৮৬ জনের নাম। জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৮ লক্ষ ৭০১১। ভোটার তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৫৪১ জন ভোটার। এখনো বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা এক লক্ষ ৩৪৯৬। বাতিল হওয়া ভোটারদের মধ্যে খড়্গপুর সদর বিধানসভায় ৩৩৪২ জন, মেদিনীপুর বিধানসভায় ১৭৭৫ জন, ঘাটাল বিধানসভায় ১৫৪৫জন ভোটার আছেন। জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, নিয়ম মেনেই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরে খসড়া লিস্ট প্রকাশের সময় বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ৩২৫২ জন ভোটারের। তারপর নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৫৪১ জন। শনিবার দুপুরের পর থেকেই ভোটাররা নিজেদের নাম লিস্টে আছে কি না তা যাচাই করতে ওয়েবসাইট, অ্যাপসে ক্লিক করেন। লক্ষাধিক বিচারাধীন থাকায় ওই ভোটাররা চিন্তায় রয়েছেন। ২০২৬ সালে বিধানসভা ভোটের আগে যাবতীয় নথি যাচাইয়ের কাজ শেষ করে চূড়ান্ত ভোটার হিসেবে প্রকাশ করা হবে কি না তানিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।
আর ঝাড়গ্রামে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মোট ১৩৩৮ জনের নাম বাদ গিয়েছে। গত ডিসেম্বর মাসে খসড়া লিস্ট অনুযায়ী জেলার ভোটার সংখ্যা ৯ লক্ষ ২০১৪ জন। চূড়ান্ত তালিকায় ৬৬২৫ জনের নাম যুক্ত হয়েছে। বাদ পড়েছেন ১৩৩৮ জন। ফাইনাল লিস্ট অনুযায়ী জেলায় মোট ভোটার ৯ লক্ষ ৭৩০১ জন। তারমধ্যে ৬৬২৬ জন বিচারাধীন ভোটার আছেন।
জেলাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর বলেন, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে যে কেউ নাম তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফর্ম-৬ পূরণ করে বিএলও-র কাছে জমা করা যাবে। প্রত্যেক বুথে ভোটার তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অ্যাপেও ভোটার তালিকায় নাম আছে কি না জানা যাবে। বুথ লেভেল অফিসারদের কাছে হার্ডকপি রয়েছে। সেখানেও নাম আছে কি না দেখা যাবে। নির্বাচন কমিশনের টোল ফ্রি নম্বর ১৯৫০ তে ফোন করে সব ধরনের তথ্যের বিষয়ে জানা যাবে।