Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সোনারপুর থেকে নদীয়া যেতেই পারল না ২৩ ফুটের ঠাকুর, ২০ হাজার লিটার জলে গলিয়ে ফেলা হল মূর্তি

তিনি মহিমায় বিশাল। আকারেও বৃহৎ। উচ্চতা আকাশছোয়া। ভ্রমণের জন্য রাজপথ তাঁর জন্য সুগম নয়। হতে পারে সমস্যা। তাই সড়কপথে সোনারপুর থেকে শান্তিপুর যাওয়ার যে প্ল্যান ছিল তা করতে হল বাতিল। ফলে সোনারপুর দেবীর আশীর্বাদ পেল।

সোনারপুর থেকে নদীয়া যেতেই পারল না ২৩ ফুটের ঠাকুর, ২০ হাজার লিটার জলে গলিয়ে ফেলা হল মূর্তি
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: তিনি মহিমায় বিশাল। আকারেও বৃহৎ। উচ্চতা আকাশছোয়া। ভ্রমণের জন্য রাজপথ তাঁর জন্য সুগম নয়। হতে পারে সমস্যা। তাই সড়কপথে সোনারপুর থেকে শান্তিপুর যাওয়ার যে প্ল্যান ছিল তা করতে হল বাতিল। ফলে সোনারপুর দেবীর আশীর্বাদ পেল। নদীয়ার কপালে তা থেকে গেল অধরাই। আর দুর্গা চলে গেলেন নিরঞ্জনের পথে। ২০ হাজার লিটার জল দিয়ে সম্পন্ন হল বিসর্জন। ঘটনাটি কিঞ্চিৎ অভিনব বলে সেই দুর্গামূর্তির সঙ্গে নামজুড়ে গিয়ে খবরে চলে এল দক্ষিণ ২৪ পরগনা আর নদীয়া।

Advertisement

এবছর দুর্গাপুজোর সময় দর্শকদের নজর কেড়েছিল সোনারপুরের কোদালিয়ার দাসপাড়া মিতালি সংঘের প্রতিমা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিস্তর প্রচার পেয়েছিলেন দেবী। সেসব দেখে দারুণ ভালো লেগে যায় নদীয়ার শান্তিপুরের একটি ক্লাবের। কর্তৃপক্ষ ঠিক করে, মিতালি ক্লাবের প্রতিমা নিয়ে যাবে নদীয়ার বিখ্যাত রাসমেলায়। সেই অনুযায়ী, কথাবার্তা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, ঠাকুর যাবেন শান্তিপুর।
কিন্তু এ পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল ঠাকুরের বিশাল উচ্চতা। যার ফলে প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত একপ্রকার বাধ্য হয়ে বাতিল করল শান্তিপুরের ক্লাবটি। জানা গিয়েছে, ওই প্রতিমার উচ্চতা প্রায় ২৩ ফুট। নদীয়ার ক্লাবটি পুজো উদ্যোক্তাদের থেকে উচ্চতার বিষয়ে কোনও খোঁজ নেয়নি। তারা কোদালিয়ার দাসপাড়া মিতালি সংঘকে প্রতিমা সংরক্ষণ করে রাখতে বলে। মিতালির পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা দীপক দাস বলেন, ‘ঠাকুরকে ভালো করে ত্রিপল দিয়ে মুড়ে সাবধানে রেখেছিলাম। মাঝে অনেক ঝড় জল গিয়েছে। কিন্তু তাতে ঠাকুরের কোনও ক্ষতি হয়নি।’ তিনি জানান, দিনকয়েক আগে প্রতিমার উচ্চতার বিষয়টি জানার পর সিদ্ধান্ত বাতিল করে শান্তিপুরের ক্লাবটি। যাওয়ার পথে অনেক হাই টেনশন লাইন এবং কেবল পড়বে। সেই তারে বাধাপ্রাপ্ত হতে পারেন মূর্তি। এর ফলে ঠাকুর সোনারপুরেই থেকে যান। উচ্চতার কারণে আদিগঙ্গায় বিসর্জন সম্ভব নয়। সে কারণে পুরসভা থেকে গাড়ি এনে মূর্তি গলিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। প্রায় চারঘণ্টার চেষ্টায় বিসর্জন পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। 
প্রতিমা পুজোর অন্যতম পর্ব হল নিরঞ্জন। শাস্ত্রে এই অধ্যায়কে পূর্ণতাপ্রাপ্তি বলে। অনেকে বলেন, ঠাকুর অবিনেশ্বর। কিন্তু মূর্তি তা নয়। বিসর্জন দেওয়া অর্থাৎ নশ্বর দেহ বিলীন হওয়া। প্রসঙ্গত গঙ্গা বা অন্য জলাশয়ে ভাসিয়ে না দিয়ে মূর্তি গলানোর কাজ আগে হয়েছে কলকাতার কয়েকটি জায়গায়। তার অন্যতম টালা। তারা লিটার লিটার জল দিয়ে মূর্তির মাটি গলিয়ে দেয়। সোনারপুরের কোদলিয়ার ক্লাবটিও বিসর্জনের সে কৌশলেই গলিয়েছে মূর্তির মাটি। আর রাসে অংশ নিতে যেতে পারলেন না সোনারপুরের ঠাকুর। আর আশীর্বাদপ্রাপ্তি অধরাই থেকে গেল নদীয়ার।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ