Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নথি যাচাইয়ে গতি আনতে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড থেকে আরও ২২ বিচারক, জেলায় বিচারকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৪৮

নদীয়া জেলায় আসছেন আরও ২২ জন বিচারক। ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড জেলা থেকে তাঁদের আনা হচ্ছে। জেলায় এতদিন ২৬ জন বিচারক ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের নথি যাচাই করছিলেন

নথি যাচাইয়ে গতি আনতে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড থেকে আরও ২২ বিচারক, জেলায় বিচারকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৪৮
  • ৬ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় আসছেন আরও ২২ জন বিচারক। ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড জেলা থেকে তাঁদের আনা হচ্ছে। জেলায় এতদিন ২৬ জন বিচারক ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের নথি যাচাই করছিলেন।‌ এবার বিচারকের সংখ্যা বেড়ে হচ্ছে ৪৮ জন। অর্থাৎ, জেলার ১৭টি বিধানসভায় দু’জন থেকে তিনজন বিচারক এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হবেন।‌ মূলত, এসআইআরের বিচারাধীন ভোটারদের নথি যাচাই প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির গতি আনতে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে, কয়েক লক্ষ ভোটারের নথির বৈধতা যাচাইয়ে ৪৮ জন বিচারকও যথেষ্ট কিনা, সেই প্রশ্ন উঠছে।

Advertisement

রাজ্যজুড়ে প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নথি যাচাই করতে হচ্ছে বিচারকদের। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত মাত্র ৪ লক্ষ বিচারাধীন নামের নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। কয়েকদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিল, প্রত্যেক জুডিশিয়াল অফিসাররা যদি ২৫০টি মামলার নিষ্পত্তি করেন, তারপরও পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৮০ দিন সময় লাগবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলাতেও ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ভোটারকে বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেইমতো বিচারকের সংখ্যা কম থাকায় বিচারাধীন ভোটারদের নিষ্পত্তির গতিও অনেকটা কম। তাই, এই কাজের জন্য বিচারকের সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে। বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশার মতো প্রতিবেশী রাজ্য থেকে প্রায় ২০০ জন বিচারক আনা হচ্ছে। নদীয়া পাচ্ছে ২২ জন বিচারক। নদীয়া জেলায় ৮ জন বিচারক দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তখন একজন বিচারককে দু’টি করে বিধানসভা দেখতে হচ্ছিল। বিগত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ২৬ জন বিচারক বিচারাধীন ভোটারদের নথি যাচাই করে নিষ্পত্তির কাজ করছিলেন। সেক্ষেত্রে কিছু বিধানসভায় দু’জন আর কিছু বিধানসভায় একজন বিচারক এই দায়িত্ব পেয়েছিলেন।‌ জেলাশাসক অফিসেও সেই কাজ চলছিল। যদিও নতুন বিচারকদের মধ্যে কারা কোন বিধানসভার দায়িত্ব নেবেন, সেই নিয়ে আলোচনা চলছে প্রশাসন মহলে। তবে, ৪৮ জন বিচারক এলে কাজের গতি ও তা বন্টন করতে সুবিধা হবে বলেই মনে করছে প্রশাসন মহল। 
যদিও বিচারকরা কতজন ভোটারের বৈধতা যাচাইয়ের কাজ নিষ্পত্তি করছেন, তা নিয়ে অন্ধকারে প্রশাসনের আধিকারিকরা। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, জেলার প্রতি বিধানসভায় গড়ে ১৫০০ থেকে ২০০০ ভোটার নথি যাচাইয়ের কাজ নিষ্পত্তি হয়েছে।
এমনিতেই জেলাজুড়ে বিচারাধীন ভোটার নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পাশাপাশি ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জেলাশাসক অফিসে বহু বিচারাধীন ভোটার ফর্ম-৬ জমা দিতে ভিড় করছেন। বিশেষ করে সংখ্যালঘু এলাকায় ‘বিচারাধীন’ ভোটার নিয়ে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। পাসপোর্ট, জন্ম শংসাপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা করেও সন্দেহভাজনের তালিকায় থাকা নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকেই। জেলার বেশকিছু বিধানসভায় দেখা যাচ্ছে, যতজন ভোটারকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে ডাকা হয়েছিল তাঁদের সকলকেই নির্বাচন কমিশন বিচারাধীনের আওতায় রেখেছে। যা নিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলাও চলছে।‌দেখা যাচ্ছে, নদীয়া উত্তরের ৮ টি বিধানসভায় ১ লক্ষ ২৭ ১০০ জন এবং নদীয়া দক্ষিণের ৯ টি বিধানসভা ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ভোটারকে বিচারাধীনের আওতায় রাখা হয়েছে। যার মধ্যে রানাঘাট মহকুমায় ৬৬ হাজার, কৃষ্ণনগর মহকুমায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার, তেহট্ট মহকুমায় ৪০ হাজার এবং কল্যাণী মহকুমায় ৪৫ হাজার বিচারাধীন ভোটার রয়েছে।  প্রতীকী চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ