নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: দাপট দেখা না গেলেও বছরের শুরু থেকেই জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বর্ষার শুরু থেকেই পরিস্থিতিতে লাগাম টানতে সতর্কতায় জোর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের। যা নিয়ে ময়দানে নেমেছে উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদও। বুধবার জেলা পরিষদের উদ্যোগে পালিত হয় ‘বিশেষ পরিছন্নতা দিবস’।
এবছর নির্দিষ্ট সময়ের আগে বর্ষা ঢুকেছে বলে ঘোষণা করেছে আবহাওয়া দপ্তর। বর্ষা আসার ১৫ দিন আগে থেকেই বিক্ষিপ্তভাবে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। যার জেরে বাড়ছে মশার সংখ্যা। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট বলছে, গত জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২২ জন। আর তাই বর্ষার সময় যাতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা না বাড়ে তার জন্য এখন থেকেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে জেলাজুড়ে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদ পরিচ্ছন্নতা দিবস উদযাপন করেছে। সচেতনতামূলক প্রচার র্যালিতে সাফাইকর্মীদের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটেন জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি পম্পা পাল, কর্মাধ্যক্ষ ও অন্য আধিকারিকরা। র্যালি থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকা পরিষ্কারে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। যত্রতত্ৰ ময়লা ফেলা যাবে না। সেখানে বর্ষার সময় জল জমে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়তে পারে। সভাধিপতি পম্পা পালের বক্তব্য, সারা বছর ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি কার্যক্রম চলতে থাকে জেলায়। তারপরও মানুষকে সচেতন থাকার ব্যাপারে প্রচার চালানো হয়। জেলার প্রত্যেক ব্লকের জলাশয়ে নির্দিষ্ট সময়ে গাপ্পি মাছও ছাড়া হবে। সর্বত্র ডেঙ্গু দমনে একাধিক পদক্ষেপের ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারে জোর দেওয়া হচ্ছে।
বছরের শুরু থেকেই ডেঙ্গু দমনে জেলায় প্রয়োজনীয় কাজকর্ম চালাচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকান্ত বিশ্বাস বলেন, জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ এখনও পর্যন্ত সেভাবে নেই। গত জানুয়ারি থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত পাঁচ মাসে ২২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। বিক্ষিপ্তভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কোথাও একই এলাকায় একাধিক জনের মধ্যে ছড়ায়নি। সারা বছর জেলাজুড়ে স্বাস্থ্যদপ্তর কাজ করলেও বর্ষার শুরু থেকে কাজের পরিধি অনেকটাই বাড়ানো হয়। জ্বরের রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর মতো পদক্ষেপ এই সময় বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। নিজস্ব চিত্র।