Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারই ২১’এর মেগা শো, হাওড়া স্টেশনে ভিড় সামাল কীভাবে? ঘুম ছুটেছে জিআরপি-আরপিএফের

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের শেষ সমাবেশ।

শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবারই ২১’এর মেগা শো, হাওড়া স্টেশনে ভিড় সামাল কীভাবে? ঘুম ছুটেছে জিআরপি-আরপিএফের
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের শেষ সমাবেশ। আজ, সোমবার একুশের মেগা ইভেন্টে চমক দিতে তৈরি রাজ্যের শাসক শিবির। ফলে ভোররাত থেকে শহর, শহরতলি ও গ্রামের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা কাতারে কাতারে এসে পা রাখবে হাওড়া স্টেশনে। অন্যদিকে এই একই দিনে পড়েছে শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার। ফলে তারকেশ্বর থেকে ফেরা পুণ্যার্থীর সংখ্যা হবে দ্বিগুণ। সবমিলিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের সম্ভাবনা রয়েছে হাওড়া স্টেশনে। এই দ্বিমুখী ভিড়ের চাপ সামাল দিতে রীতিমতো হিমসিম খাওয়ার দশা রেল পুলিসের। জানা গিয়েছে, মানুষের চাপ সামলাতে অতিরিক্ত ফোর্স নামানো হচ্ছে। সর্বত্র বাড়তি নজরদারি চালাবে জিআরপি ও আরপিএফ।

Advertisement

ধর্মতলা চত্বরে একুশের সভাস্থলে এ বছর কলকাতা ও হাওড়া সংলগ্ন জেলাগুলি থেকে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী-সমর্থক আসছে বলে খবর। রবিবার বিকেল থেকেই হুগলি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর থেকে আসা কর্মীরা হাওড়া স্টেশনে নামতে শুরু করেছেন। তাঁদের থাকার জন্য উত্তর হাওড়ার সালকিয়ার শ্রীরাম বাটিকা ও শ্যাম গার্ডেনে দু’টি বড় শিবিরের আয়োজন করেছে দল। সেখানে ২০ হাজার মানুষের জন্য হয়েছে রান্নার ব্যবস্থা। হাওড়ার তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সোমবার ভোর থেকে কর্মীদের কালো মাথার ভিড়ে ঢেকে যাবে স্টেশন। অন্যদিকে তারকেশ্বর থেকে আসা হাজার হাজার পুণ্যার্থী সকাল থেকেই নামতে শুরু করবেন হাওড়া স্টেশনে। সবমিলিয়ে এদিন ভোর থেকে প্রায় বেলা বারোটা পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে। ভিড়ের মারাত্মক চাপ থাকবে হাওড়া স্টেশনের সবকটি প্ল্যাটফর্মে। তার উপর রয়েছে নিত্যযাত্রীদের ভিড়ও। সবমিলিয়ে ক্রাউড কন্ট্রোল করা আজ রেল পুলিসের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে অনেকে।
রেল পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে ইতিমধ্যেই জিআরপি ও আরপিএফের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। দু’পক্ষ বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করবে প্ল্যাটফর্ম সহ স্টেশনের সর্বত্র। স্টেশন চত্বরে লাগানো কয়েকশো সিসি ক্যামেরা লাগাতার নজরদারি চালাবে। রেল পুলিসের আধিকারিকরা তা সর্বদা মনিটর করবেন। ওল্ড ও নিউ কমপ্লেক্সে বসছে পুলিস অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ। স্টেশনের বাইরে ভিড়ের চাপে ট্রাফিক ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। তা সচল রাখতে হাওড়া সিটি পুলিস ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালাবে। অন্যদিকে হাওড়ার পাশাপাশি সাঁতরাগাছি স্টেশনেও এদিন ভোর থেকে ভিড় বাড়বে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের। সেখানে শালিমার জিআরপি বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করেছে। হাওড়া জিআরপির এক আধিকারিক বলেন, ‘একই দিনে রাজনৈতিক সমাবেশ ও শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার পড়েছে। একুশে জুলাই ভিড় কয়েকগুণ বেশি হয়। তবে রেল পুলিস সবদিক দিয়ে সতর্ক।’ হাওড়া সিটি পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘ভিড়ের কারণে নিত্যযাত্রীরা যাতে দুর্ভোগে না পড়েন তার জন্য হাওড়া স্টেশনের বাইরে বাস স্ট্যান্ড, ফেরি ঘাটে বাড়তি পুলিস মোতায়েন থাকবে। এই পরিমাণ ভিড় বাড়লে ছিনতাই, পকেটমারির মতো ঘটনা বেড়ে যায়। তা আটকাতে কড়া নজরদারি চালানো হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ