মা হওয়া কি মুখের কথা! প্রতি মুহূর্তে থাকে স্বাস্থ্যহানির ভয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকে। এই প্রবাদ সত্যি হয়ে দেখা দিয়েছিল দমদম নিবাসী তান্দ্রেয়ী চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে। তবে তাঁর মা হওয়ার এই জটিল যাত্রাপথকে জটিলতা পেরিয়ে সাফল্যের মুখ দেখাল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রসূতি বিভাগ (ইডেন হাসপাতাল)। ৩৬ বছর বয়সি তান্দ্রেয়ী বিয়ের ছ’বছর পর সন্তানধারণ করেন। তবে জটিলতা ছিল গর্ভধারণের প্রথম পর্যায় থেকেই। যমজ ভ্রূণের (ডিএডিসি) অস্তিত্ব ধরা পড়ে ইউএসজিতে, সঙ্গে জরায়ুতে একাধিক টিউমার বা ফাইব্রয়েড। নানা বেসরকারি হাসপাতালে বলা হয় গর্ভস্থ ভ্রূণ নষ্ট করে টিউমার অপারেশন করিয়ে নেওয়ার জন্য। এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়ে তান্দ্রেয়ী ও তাঁর পরিবার। শেষে এক পারিবারিক বন্ধুর পরামর্শে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রসূতি বিভাগে যান তান্দ্রেয়ী। শুরু হয় চিকিৎসা। হঠাৎ ইউএসজি করে ধরা পড়ে, যমজ ভ্রূণের একটির হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছে! শোকে আছন্ন হয় প্রসূতি ও তাঁর পরিবার। একে তো একাধিক ফাইব্রয়েড, তার উপর যমজ শিশুর একজন মাত্র জীবিত! এমন অবস্থায় জীবিত শিশুকে রক্ষা করতে বিশেষ যত্নবান হয়ে ওঠেন প্রসূতি বিভাগের চিকিৎসকরা। অধ্যাপক প্রফেসর বিবেক মোহন রক্ষিতের নেতৃত্বে চলে প্রসূতির চিকিৎসা। ফাইব্রয়েডের কারণে পেটে ব্যথা সহ নানা উপসর্গ থাকায় মাত্র ৩২ সপ্তাহে তান্দ্রেয়ীদেবী মেডিক্যাল কলেজের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হন। অস্ত্রোপচার হয় তাঁর। তান্দ্রেয়ীদেবীর চিকিত্সক দলে ডাঃ রক্ষিত ছাড়াও ছিলেন প্রসূতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নীতা রায় সহ পিজিটি ডাঃ দেবলীনা ও ডাঃ শিবানী। চিকিৎসকদের তৎপরতা ও দক্ষতায় সিজারিয়ান ডেলিভারির মাধ্যমে ৩৪ সপ্তাহে ২.৬ কেজির সুস্থ সন্তানের জন্ম দেন তান্দ্রেয়ী। সেইসঙ্গে ছোট বড় বিভিন্ন মাপের ২১টি ফাইব্রয়েড (মোট ১.৬৬২ কেজি ওজনের) বের করা হয় জরায়ু থেকে। এতগুলি ফাইব্রয়েড সহ স্বাস্থ্যবান শিশুর ডেলিভারি করানো যেমন চ্যালেঞ্জের ছিল, জরায়ুকে বাঁচিয়ে ২১টি ফাইব্রয়েডকে অপারেশন করে বের করাও যেন ছিল ততোধিক চ্যালেঞ্জের। বের করা হয় মৃত ভ্রূণ ও প্লাসেন্টা।



