Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

উপপ্রধানের গোডাউন থেকে মিলল ত্রাণের ২০০ ত্রিপল, চাঞ্চল্য আমতায়

সাধারণ মানুষকে ত্রাণের ত্রিপল না দিয়ে নিজের গোডাউনে রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠল আমতা ২ নম্বর ব্লকের বিনোলা কৃষ্ণবাটী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বিরুদ্ধে।

উপপ্রধানের গোডাউন থেকে মিলল ত্রাণের ২০০ ত্রিপল, চাঞ্চল্য আমতায়
  • ২১ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: সাধারণ মানুষকে ত্রাণের ত্রিপল না দিয়ে নিজের গোডাউনে রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠল আমতা ২ নম্বর ব্লকের বিনোলা কৃষ্ণবাটী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে বিষয়টি গ্রামবাসীদের নজরে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। প্রচুর মানুষ জড়ো হয়ে যান। পরে জয়পুর থানার পুলিশ এসে ত্রিপলগুলি উদ্ধার করে। প্রশাসন সূত্রে খবর, এদিন ২০০’র বেশি ত্রিপল উদ্ধার করা হয়েছে উপপ্রধানর গোডাউন থেকে।

Advertisement

আমতা ২ নম্বর ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষকে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনোলা কৃষ্ণবাটী গ্রাম পঞ্চায়েতকে ত্রিপল সহ নানা সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বজিৎ সাহা সেইসব ত্রিপল দুর্গতদের না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। বুধবার বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসতেই তাঁরা গোডাউনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরে পুলিশ গিয়ে গোডাউন খুলে ত্রিপল উদ্ধার করে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গতরা ত্রিপল চাইতে গেলে দলীয় স্লিপ চাওয়া হতো। কেউ স্লিপ দিতে না পারলে, মিলত না ত্রিপল। সেই ত্রিপলই ডাঁই হয়ে পড়েছিল ওই গোডাউনে। 
শুধু ত্রিপল নয়, চাষিদের দেওয়ার জন্য যে বাদাম বীজ এসেছিল, সেসবও উদ্ধার হয়েছে ওই গোডাউন থেকে। চাষিদের না দিয়ে তা আত্মসাৎ করাই উদ্দেশ্য ছিল উপপ্রধানের। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া ত্রিপলের বড়ো অংশই ইঁদুরে কেটে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শিউলি রায় বলেন, পঞ্চায়েতের ত্রিপলের বিষয়টি বিশ্বজিৎবাবু দেখতেন। সুতরাং বিষয়টি তিনিই বলতে পারবেন। এই বিষয়ে উপপ্রধান বিশ্বজিৎ দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন সুইচড অফ থাকায় কথা বলা যায়নি। এই বিষয়ে আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত বলেন, তৃণমূলের পদাধিকারীরা প্রশাসনের দেওয়া সামগ্রী নিজেদের সম্পত্তি মনে করে ব্যক্তিগত গোডাউনে রেখে দিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন, ফের সরকারে এলে আবার রমরমা ব্যবসা করতে পারবেন। কিন্তু পালাবদল হওয়ায় এইসব জিনিস আর সরাতে পারেননি। সাধারণ মানুষ সব দেখে ফেলেছেন। আমরা বিডিওকে আইন মেনে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছি।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ