নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষমতায় এসে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ২০ শতাংশ হারে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তা কার্যকর হবে ১ অক্টোবর থেকে। কিন্তু আরও একধাপ এগিয়ে শনিবার মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড়ো ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত রাজ্যের শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়ে দিলেন, পুজোর মাসে অগ্রিম বেতনের সঙ্গেই দেওয়া হবে এই বর্ধিত হারে ২০ শতাংশ ডিএ। এই সুবিধা পাবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাও। এখানেই শেষ নয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বকেয়া ডিএ’র বিষয়েও এদিন আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু।
সাধারণত রাজ্য কর্মীদের বেতন হয়ে থাকে মাসের শেষ ওয়ার্কিং ডে’তে। আর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে পরের মাস পয়লায়। পুজোর মরশুমে সেটা অগ্রিম দেওয়ার রীতি রয়েছে। তা বজায় রাখছে বর্তমান বিজেপি সরকার। চলতি বছর সরকারি অফিসে দুর্গাপুজোর ছুটি পড়ছে ১৫ অক্টোবর। সেক্ষেত্রে ১৩ বা ১৪ অক্টোবর মাসের মাইনে অগ্রিম ঢুকবে কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। একইসঙ্গে ঢুকবে বর্ধিত হারে মহার্ঘ ভাতাও। এদিন সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে সমর্থন জানিয়ে এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের (রাজ্য সরকারি কর্মচারী) সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের বর্তমানে ডিএ’র ফারাক ৪২ শতাংশ। আমরা পুজোর আগেই অ্যাডভান্স বেতন দেব, ২০ শতাংশ ডিএ অ্যাডিশনাল করেই দেব।’
বর্ধিত হারে ডিএ পাওয়ার পর কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের কর্মীদের মহার্ঘ ভাতার ফারাক থেকে যাবে প্রায় ২২ শতাংশ। তা পূরণ করে দ্রুত সপ্তম পে কমিশন কার্যকরের বিষয়েও এদিন ফের একবার রাজ্যের কর্মচারীদের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছেন, ‘আমরা সপ্তম পে কমিশন তৈরি করে দিয়েছি। রিপোর্ট এলেই তা কার্যকর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কারণ, অর্থনৈতিক সুরক্ষাও একটা বিষয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির যুগে অর্থনৈতিক সুরক্ষাটাও গুরুত্বপূর্ণ।’
কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী সহ অন্যান্য গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মচারীরা বকেয়া ডিএ কবে পাবেন? এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা। তাঁদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের (শিক্ষক-শিক্ষিকা) ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হয়নি, সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে আছে। আমাদের সরকারের নীতি খুব পরিষ্কার, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা কমিটি যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা তাই মেনে নেব। আমরা হিসাব করেছি শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মীদের এরিয়ার দিতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। আমরা হয়তো একদিনে এই টাকা দিতে পারব না। কিন্তু মালহোত্রা কমিটি যদি আমাদের নির্দেশ দেয়, তাহলে সবরকমভাবে আমরা সহযোগিতা করব।’ অর্থাৎ, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
সাধারণ রাজ্য সরকারি কর্মীরা পুজোর আগে একসঙ্গে অগ্রিম বেতন এবং বর্ধিত মহার্ঘ ভাতা পাওয়া নিয়ে যথেষ্ট খুশি হলেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলেছে নানা কর্মচারী ইউনিয়নের তরফে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স মেনেই মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে রাজ্যের কর্মচারীদের। তা না হলে মূল্যবৃদ্ধির জ্বালা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।