নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বুধবার ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গে বজ্রাঘাতে মোট ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে ও বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। এর মধ্যে বাঁকুড়ায় ন’জন, পূর্ব বর্ধমানে ছ’জন, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে দু’জন করে এবং বীরভূমে একজন প্রাণ হারিয়েছেন। সকলেই মাঠে চাষের কাজ করছিলেন। এই ঘটনায় চাষিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রশাসনের পরামর্শ, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় মাঠে থাকলে বসে পড়ুন। আর সম্ভব হলে পাকা ছাদের নীচে আশ্রয় নিন।
বৃহস্পতিবার সকালে বাঁকুড়ার ওন্দায় বজ্রাঘাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন ওন্দার ছাগুলিয়া গ্রামের প্রতিমা রায়(৪৫), চিঙানি গ্রামপঞ্চায়েতের কামারকাটা গ্রামের নারায়ণ সাওয়ার(৪৮), কল্যাণী অঞ্চলের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের তিলকা মাল(৪৯), ভাদুলডাঙা গ্রামের জবা বাউরি(৩৩)। তাঁরা প্রত্যেকে মাঠে কাজ করছিলেন। কোতুলপুরের খিরি গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বাজ পড়লে জিয়াউল হক মোল্লার(৫০) মৃত্যু হয়। জখম হন আসকিয়া মোল্লা। জয়পুরের জগন্নাথপুর অঞ্চলের খড়িকাশুলি গ্রামের উত্তম ভুঁইয়ার(৩৩) মৃত্যু হয়েছে। তিনিও মাঠে কাজ করছিলেন। দুপুর ১২টা নাগাদ পাত্রসায়রের কাঁটাবন গ্রামের জীবন ঘোষ(২০) তাঁর বাবা ও কাকার সঙ্গে মাঠে কাজ করছিলেন। বাজ পড়লে জীবন মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। ঘটনায় তাঁর বাবা ও কাকা জখম হন। ইন্দাসের বাঙালচক গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বাজ পড়ে শেখ ইসমাইল মণ্ডলের(৫৫) মৃত্যু হয়। এদিন সন্ধ্যায় বিষ্ণুপুরের উলিয়াড়া অঞ্চলের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে খালের ধারে একটি হাইটেনশন তারের নীচে মদন বাগদির(৭০) মৃতদেহ পড়েছিল। পরিবারের দাবি, তিনি গোরু খুঁজতে বেরিয়ে বজ্রাঘাতে মারা যান।
বুধবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়ার বন্দোয়ান থানার পাটকিতা গ্রামের বাজ পড়ে মনোতোষ সিংয়ের(১৬) মৃত্যু হয়। এদিন বজ্রাঘাতে ঝালদার গুরিডি গ্রামের সুমিত্রা মাহাত(৪৪) মারা যান।
পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা থানার লাহিরগঞ্জে বজ্রাঘাতে লক্ষ্মীকান্ত পানের(৪২) মৃত্যু হয়। তিনি মাঠে কাজ করছিলেন। এছাড়া দাঁতন থানার ষড়রং গ্রামে যতীন মাইতির(৭৭) মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মাঠে কাজ করার সময় পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানা এলাকায় বাজ পড়ে সনাতন পাত্রের(৬০) মৃত্যু হয়। এই থানা এলাকায় ধান রোয়ার কাজে এসে বজ্রাঘাতে পরিমল দাসের(৩২) মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বাড়ি খণ্ডঘোষের শেরপুরে। আউশগ্রাম থানার ভেদিয়ায় বাজ পড়ে রবিন টুডুর(২৫) মৃত্যু হয়েছে। ধান রোয়ার সময় বজ্রাঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়। রায়না থানার তেয়াণ্ডুল গ্রামে বাজ পড়ে অভিজিৎ সাঁতরার(২৫) মৃত্যু হয়েছে। তিনিও মাঠে চাষের কাজ করছিলেন।
মঙ্গলকোট থানার চানক-কৃষ্ণপুরে বুড়ো মাড্ডি(৬৪) এবং কসবার ফতেপুরে বজ্রপাতে মদন বাগদির(৬৩) মৃত্যু হয়। তাঁরা মাঠে কাজ করছিলেন। এদিন ভাতার থানার ভুমসোর গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় বাজ পড়ে বাবা ও দুই ছেলে জখম হয়েছেন। বলগোনায় মাঠে কাজ করার সময় আলাউদ্দিন শেখ নামে এক ব্যক্তি জখম হন।
বীরভূমের নলহাটি থানার নগরা গ্রামে টুকেন মালের(২৩) মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বৃষ্টির মধ্যেই তিনি মাঠে ধান পুঁতছিলেন। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তারাপীঠের ধল্লা গ্রামে জমিতে কাজ করার সময় একই পরিবারের তিনজন জখম হন।