নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বৃহস্পতিবার একসঙ্গে ২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল চুঁচুড়া আদালত। শুক্রবার বেনজিরভাবে সাজাও ঘোষণা করা হয়। ২০১৭ সালে ছেলেধরা সন্দেহে দুই মহিলা ও তাঁদের গাড়ির চালকের উপরে ভয়াবহ হামলার মামলায় দু’জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন চুঁচুড়ার ফাস্ট ট্র্যাক (প্রথম) কোর্টের বিচারক পীযূষকান্তি রায়। একইসঙ্গে আরও ২৩ জনকে সাত বছরের কারাদণ্ডের রায় শুনিয়েছেন তিনি। নিগৃহীত দুই মহিলার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আক্রান্ত গাড়িচালক বিশ্বনাথ মোদক এদিন আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিন সাজা ঘোষণার পরেই আদালতে শোরগোল পড়ে যায়। সরকারি আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায় ও জয়ন্ত সাহা বলেন, বেনজির রায় দিয়েছেন বিচারক। জেলা তো বটেই, অন্যান্য ক্ষেত্রেও ২৩ জনকে সাত বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে দু’জনের যাবজ্জীবন কারাবাসের রায় বিরল ঘটনা। বিচারক যে দু’জনকে যাবজ্জীবনের সাজা দিয়েছেন তাদের নাম গোপাল রায় এবং পূর্ণিমা মালিক। নিগৃহীত গাড়িচালক বিশ্বনাথ মোদক বলেন, আজও আমার শরীর সুস্থ হয়নি। এখনও বীভৎস ব্যথা নিয়ে আমি প্রতিদিন বাঁচি। ওই দিনটি এখন দুঃস্বপ্নের মতো আমার স্মৃতিতে স্পষ্ট। মারের চোটে একসময় অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। বহুদিন বিছানা ছেড়ে উঠতে পারিনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, রায় ঘোষণার পর এদিন আদালত থেকে ফেরার পথে ২৫ জনকেই কাঁদতে দেখা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের স্ত্রী ও মেয়ে কল্যাণী থেকে বলাগড়ের আসানপুরে এসেছিলেন পরিচারিকার খোঁজ করতে। কিন্তু গ্রামের মানুষের একাংশ তাঁদের ছেলেধরা ভেবে নির্মমভাবে মারধর করে। দুই মহিলা ও তাঁদের গাড়িচালককে নিগ্রহের পাশাপাশি তাঁদের গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এসে আক্রান্ত হয় পুলিশও। এক সিভিক ভলান্টিয়ার তিরবিদ্ধ হয়েছিলেন। সেই মামলায় বৃহস্পতিবার ২৫ জনকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এদিন সাজা ঘোষণা হয়।