নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বেপরোয়া মাটির গাড়ির ধাক্কায় এক বাইক চালক ও আরোহীর মৃত্যু ঘিরে উত্তাল হল মাটিয়া। পুলিশের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে শনিবার পথে নামে ক্ষুব্ধ জনতা। বিক্ষোভে শামিল হন মৃত যুবকদের পরিবারের সদস্যরাও। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম পার্থ দাস (২৮) ও শামিম মোল্লা (৩০)। শুক্রবার রাতে বেপরোয়া গতিতে চলা একটি মাটি বোঝাই ট্রাকের চাকার তলায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শামিমের। পার্থকে বসিরহাট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। দু’জনেরই বাড়ি মাটিয়ার চাঁপাপুকুর পঞ্চায়েতের রাজাপুর গ্রামে। রাতে কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা। মাটির গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে তাঁদের বাইকে ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ।
শনিবার সকালে ওই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বেঞ্চ পেতে শুরু হয় অবরোধ। রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে চলে দফায় দফায় বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এর আগেও বেপরোয়া মাটির গাড়ির ধাক্কায় নিরীহ মানুষের প্রাণ গিয়েছে। তারপরেও পুলিশ এসব গাড়ি নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ করেনি। সবটাই হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকার খেলা। দুর্ঘটনার পর গাড়ির মালিকের সঙ্গে টাকার বিনিময়ে রফা হয়ে যাচ্ছে। এনিয়ে বসিরহাট জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে মাটির গাড়ির বেআইনি অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। পুলিশ যে কোনো বেপরোয়া গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে সবসময় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এক্ষেত্রেও ঘাতক গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিন সকালের বিক্ষোভ পরিস্থিতি সামাল দিতে মাটিয়া থানা থেকে ছুটে আসে পুলিশ। তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ধীরে ধীরে যানচলাচল স্বাভাবিক হয় খোলাপোতা-শাসন রোডে। নিহত শামিমের বাবা আবেদ আলি মণ্ডল বলেন, ‘মাটির গাড়ির দৌরাত্ম্যে আজ আমার ছেলের প্রাণ গেল। বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে রাস্তায় চলছে মাটির গাড়ি। পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উলটে গাড়ির মালিকের থেকে টাকা নিয়ে অলিখিত ছাড়পত্র দিয়ে দেয়। বিচারের দাবিতেই পথে নেমেছি আমরা।’ নিজস্ব চিত্র