Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুলিয়ায় দফায় দফায় ঝড়বৃষ্টি বজ্রাঘাতে মৃত ২, বিধ্বস্ত হিড়বাঁধ

পুরুলিয়ায় দফায় দফায় ঝড়বৃষ্টি বজ্রাঘাতে মৃত ২, বিধ্বস্ত হিড়বাঁধ
  • ২২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দফায় দফায় দফায় ঝড়বৃষ্টিতে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়। বাজ পড়ে পুরুলিয়ায় দু’জনের মৃত্যু হয়। দমকা ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বাঁকুড়ার হীড়বাঁধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আরামবাগেও এদিন আকাশ মেঘলা ছিল। মহকুমার কোনও কোনও জায়গায় দু’-একপশলা বৃষ্টি হয়।

Advertisement

শুক্রবার বাঁকুড়া শহর সহ জেলার সর্বত্র আকাশ মেঘলা ছিল। দফায় দফায় বৃষ্টি হয়। সেইসঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইতে থাকে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় ১-২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে। হীড়বাঁধে এদিন দুপুরে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়। হীড়বাঁধ ব্লকের লালরায়েরডিহি গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় ঝড়ের দাপটে একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যায়। ওই ব্লকের মশিয়ারা অঞ্চলেও খুঁটি ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। 
বৃষ্টির জেরে জেলায় তাপমাত্রা একধাক্কায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস নেমে গিয়েছে। এদিন জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত সপ্তাহে ৪০ ডিগ্রির আশপাশে ছিল। বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক(বিপর্যয় মোকাবিলা) নকুলচন্দ্র মাহাত বলেন, চাষি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করতে বিভিন্ন ব্লকে মাইকিং করা হচ্ছে। বিডিওদের পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বলা হয়েছে।  
পুরুলিয়া জেলাজুড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যে থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। শুক্রবারও বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকে। সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার ছিল। এদিন জেলায় গড় ৮.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলরামপুরে ২৩.৪ মিলিমিটার। সেখানে ব্যাপক ঝড়বৃষ্টি হয়। প্রচুর গাছ ভেঙে পড়ে। বৃষ্টিপাতের জেরে এদিন তাপমাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটাই নেমেছে। এদিন পুরুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ইট ভাটায় কাজ দেখার সময় পাড়া থানা এলাকায় বাজ পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়। মৃতের নাম আরশাদ আনসারি(৩২)। তাঁর বাড়ি ভালাগোড়া গ্রামে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, আরশাদের নিজস্ব একটি ইট ভাটা রয়েছে। বৃষ্টি হচ্ছে দেখে এদিন ১১টা নাগাদ ভাটার কাজ দেখার জন্য গিয়েছিলেন। হঠাৎ বাজ পড়লে তিনি গুরুতর জখম হন। পুরুলিয়া দেবেন মাহাত সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। শুক্রবার দুপুরে বরাবাজার থানার বাজরা গ্রামে বাড়ি নির্মাণের কাজ করার সময় বজ্রপাতে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়। ঘটনায় চারজন জখম হন। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম আনন্দ মাঝি(৪৫)। তাঁর বাড়ি বরাবাজার থানার তেঁতুলাডিহি গ্রামে। এছাড়া এদিন রঘুনাথপুরের গোসাইডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বাজ পড়ে। ঘটনায় বিদ্যালয়ের সহ-শিক্ষক শেখর মাজি জখম হন। তাঁর ডান হাতে বিদ্যুতের ঝলকানি লেগেছে। ঘটনায় বিদ্যালয়ের সমস্ত বৈদ্যুতিক তার পুড়ে গিয়েছে। শেখরবাবু বলেন, প্রচণ্ড বাজ পড়ছিল ও বৃষ্টি হচ্ছিল। তাই শ্রেণিকক্ষের একটি রুমের জানালা বন্ধ করতে গিয়েছিলাম। তখনই বিদ্যালয়ের কাছে হঠাৎ বাজ পড়ে। আমার ডান হাতে বাজের ঝলকানি লাগে। কিছুক্ষণের জন্য হাতটি অবশ হয়ে যায়। তবে কোনও ছাত্রছাত্রীর ক্ষতি হয়নি। বৃষ্টির জেরে রঘুনাথপুর মহকুমা এলাকায় জনজীবন ব্যাহত হয়। তবে কৃষিদপ্তরের দাবি, এই বৃষ্টি সব্জি ও বোরো ধান চাষে কাজে লাগবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ