Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুকের স্কুলে ভুয়ো শিক্ষক নিয়োগের ঘটনায় গ্রেপ্তার ডিআই অফিসের ২ কর্মী

তমলুকের স্কুলে ভুয়ো শিক্ষক নিয়োগের ঘটনায় গ্রেপ্তার ডিআই অফিসের ২ কর্মী
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তমলুক থানার খামারচক হাইস্কুলে জোড়া ভুয়ো শিক্ষক নিয়োগের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর ডিআই(মাধ্যমিক) অফিসের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি। ধৃতদের নাম সুব্রত তুঙ্গ এবং পুলকেশ মাইতি। সুব্রতর বাড়ি তমলুক থানার মিরিকপুর গ্রামে। পুলকেশের বাড়ি হলদিয়ায়। ধৃত পুলকেশ তমলুক ডিআই অফিস থেকে বদলি হয়ে হলদিয়া গভর্নমেন্ট কলেজে চলে গিয়েছিলেন। শুক্রবার সকাল ১১টায় তমলুক থানার ডিমারি সিআইডি অফিস থেকে দু’জনকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। জেরার সময় তদন্তকারী অফিসারদের সামনে দু’জনে ভেঙে পড়েন। রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার ধৃত দু’জনকে তমলুক সিজেএম আদালতে তুলে সিআইডি ১৪দিন হেফাজত চাইলে বিচারক ছ’দিন মঞ্জুর করেন। ধৃত দু’জন নথি জালিয়াতি করে ভুয়ো শিক্ষকদের মাইনে পেতে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ। 

Advertisement

ধৃত সুব্রত এই মুহূর্তে আপার ডিভিশন ক্লার্ক। তিনি ডিআই অফিসের যাবতীয় চিঠিতে মেমো নম্বর দিতেন। নকল চিঠিতেও সরকারি মেমো নম্বর দিয়ে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন। পুলকেশ ডিআই অফিসে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে প্রমোশন পেয়ে হলদিয়ায় বদলি হন। তবে, ডিআই অফিসে তিনি শিক্ষকদের মাইনের বিষয়টি দেখতেন। কম্পিউটারে নথি জালিয়াতি করে ভুয়ো শিক্ষকদের মাইনে নিয়মিত করে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ। 
উল্লেখ্য, তমলুক ব্লকের খামারচক হাইস্কুলে এসএসসি পরীক্ষা ছাড়াই দু’জন ভুয়ো শিক্ষক নিয়োগ হন। হাইকোর্টে ভুয়ো শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলায় রাজ্যজুড়ে শিক্ষকদের নথি ভেরিফিকেশন হয়। ওই প্রক্রিয়া চলাকালীন ২০২৩সালে ওই স্কুলে শুভেন্দু হাটুয়া নামে একজন ভুয়ো শিক্ষকের হদিশ মেলে। ওই মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। সিআইডি ভুয়ো শিক্ষক শুভেন্দুকে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক অশোককুমার হাটুয়া এবং প্রাক্তন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) চাপেশ্বর সর্দারকে গ্রেপ্তার করে। তিনজন পরবর্তীতে জামিন পান। যদিও গত মার্চ মাসে ফের ওই স্কুলে অয়নকুমার দাস নামে আর এক ভুয়ো শিক্ষকের হদিশ পাওয়া যায়। নথিপত্র যাচাইয়ের সময় এই ঘটনা সামনে আসে। ৬মার্চ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) পলাশ রায় এনিয়ে তমলুক থানায় এফআইআর করেন। ১১মার্চ সিআইডি অয়নকুমার দাসকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ১৮মার্চ ফের ওই স্কুলের অবসর নেওয়া প্রধান শিক্ষক অশোককুমার হাটুয়াকে গ্রেপ্তার করে। এই মুহূর্তে দু’জনে সিআইডি হেফাজতে রয়েছেন। 
ভুয়ো শিক্ষক নিয়োগের ঘটনায় ডিআই অফিসের সাতজনকে তলব করে সিআইডি। শুক্রবার সুব্রত এবং পুলকেশকে দ্বিতীয় দফায় জেরা করার সময় গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় তমলুক জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। পলাশবাবু বলেন, শুক্রবার সুব্রতবাবু সিআইডি অফিসে যাওয়ার সময় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত দেখছিলাম। দু’-তিনদিন ধরে অসুস্থ বলে জানাচ্ছিলেন। তখনই আমরা কিছু একটা ইঙ্গিত পাচ্ছিলাম। তারপর সন্ধ্যায় তদন্তকারী সংস্থা জানায়, দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিআই অফিসের জোড়া কর্মী গ্রেপ্তারের পর তৎকালীন ডিআইয়ের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী অফিসাররা। এছাড়াও খামারচক হাইস্কুলে দুই অশিক্ষক কর্মীর নিয়োগও আতসকাচের তলায়। এনিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ