সংবাদদাতা, ডোমকল: সরকারি জমিতে তৈরি ঘর ভাঙতে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। ঘর ভাঙা রুখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল দুই কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, টাকা নেওয়ার পরেও ঘর ভাঙা আটকাতে পারেনি তারা। টাকা ফেরত চাইতে গেলে তারা হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ। রানিনগর থানার বাসিন্দা জলি খাতুন নামে এক মহিলার এমন অভিযোগের ভিত্তিতে রানিনগর ২ পঞ্চায়েত সমিতির দুই কংগ্রেস সদস্যকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম রুহুল আমিন ও ছোটন দাস। দু’জনের বাড়িই রানিনগর থানা এলাকায়। মঙ্গলবার দুপুরে বহরমপুরে একটি হোটেলে হানা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সপ্তাহ দেড়েক বাদেই পঞ্চায়েত সমিতিতে সভাপতি নির্বাচন। তার আগে এভাবে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যর গ্রেপ্তারি ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, রানিনগরের পরাণপুরে একটি সরকারি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি করে ছিলেন কয়েকটি পরিবার। পরবর্তীতে ওই জমি দখলমুক্ত করে তা ‘জনশিক্ষার’ স্বার্থে কাজে লাগানোর দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এলাকার দুই ব্যক্তি। সেই মামলার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে আদালত ওই বাড়িগুলি ভেঙে জায়গাটিকে খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। ওই পরিবারের সদস্য মনিরুজ্জামানের দাবি, সেই সময় ঘর ভাঙার নোটিস আসার পর কংগ্রেস সদস্য রুহুল আমিন তাঁদের কাছে টাকার বিনিময়ে ওই ঘর ভাঙা আটকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগ, নিজেদের ঘর বাঁচাতে রুহুল ও ছোটনকে মোট ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দিলেও শেষপর্যন্ত তারা ঘর বাঁচাতে পারেনি। আদালতের নির্দেশে ভাঙা যায় ঘর। অভিযোগ, এরপর মাসের পর মাস ধরে ওই টাকা ফেরত চাইলেও তারা টাকা দেয়নি। উল্টে হুমকি দেয়। এরপরই দুই কংগ্রেস নেতার নামে রানিনগর থানায় অভিযোগ জানান মনিরুজ্জামানের স্ত্রী জলি খাতুন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার বহরমপুরের একটি হোটেলে হানা দিয়ে ওই দুই কংগ্রেস নেতাকে গ্রেপ্তার করে রানিনগর থানার পুলিশ।
মনিরুজ্জামান বলেন, নিজেদের শেষ সম্বল বাঁচাতে ওদের টাকা দিয়েছিলাম। যখন টাকা দিয়েছিলাম তখন ওঁরা কংগ্রেসেই ছিল। এরপরে টাকা ফেরত চাইলে পাল্টা হুমকি দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলাম।
রানিনগরের কংগ্রেস বিধায়ক জুলফিকার আলি বলেন, আমরা এভাবে টাকা নেওয়া সমর্থন করি না। যদি সত্যিই এভাবে টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে পুলিশ তদন্ত করুক। প্রশাসন প্রশাসনের মতো ব্যবস্থা নিক।
জলঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক বাবর আলি বলেন, পুলিশ পুলিশের মতোই কাজ করুক এটাই চাইব। এভাবে টাকা তোলার প্রবণতা বন্ধ হওয়া দরকার। আশা করি পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে।
যদিও রানিনগর ২ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মমতাজ বেগম হীরা বলেন, ওরা কংগ্রেসের টিকিটে জিতলেও দু’জনেই পরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিল। তারপরে এখনও কংগ্রেসে যোগদান করেনি। অন্তত ব্লক সভাপতি হিসেবে আমার কাছে ওরা ফিরেছে বলে রেকর্ড নেই।
পুলিশ সূত্রের দাবি, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। সেই মামলার প্রেক্ষিতে বহরমপুরে হানা দিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।