নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পণের জন্য নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মেয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পুলিশের কাছে এমনই অভিযোগ ছিল, বধূর বাপের বাড়ি লোকজনের। কিন্তু আদালতে অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি। দীর্ঘ ২৫ বছর পর মামলার যাঁতাকল থেকে মুক্তি পেলেন মৃতার দুই দেওর। তাঁদের নাম চিন্টু শা ও অশোক শা।
মঙ্গলবার কলকাতার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের (ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট) বিচারক কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় জামিনে থাকা দুই অভিযুক্তকে মামলা থেকে রেহাই দেন। তাঁদের কৌঁসুলি গণেশ মাইতি বলেন, ‘মক্কেলদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছিল, আদালতের রায়েই তা প্রমাণিত হয়ে গেল।’ পুলিশ সূত্রের খবর, এই মামলায় পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে বিচার চলাকালে মারা যান তিনজন। যারা সম্পর্কে মৃতার দুই শ্বশুর ও এক জামাই। ফলে মামলা চলে দু’জনের বিরুদ্ধে।
২০০১ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকো থানার মদনমোহন বর্মন স্ট্রিটের বাসিন্দা সুশীলা শা (২৮) অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। তরুণীর বাপের বাড়ির তরফে জোড়াসাঁকো থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে চার্জশিট পেশ করা হয়। মামলা ব্যাঙ্কশাল থেকে বিচারের জন্য যায় বিচারভবনে। সাক্ষ্য দেন ২৯ জন। কিন্তু নানা আইনের গেরোর জটে মামলা নিষ্পত্তি হতে গড়িয়ে যায় বছরের পর বছর। ব্যাঙ্কশাল কোর্টের অ্যাডভোকেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী প্রবীর মুখোপাধ্যায় বলেন,‘দীর্ঘদিন কোন মামলা পড়ে থাকার ফলে কোথাও অভিযুক্ত, কোথাও সাক্ষী মারা যান। কোথাও সাক্ষীকে সঠিকভাবে খুঁজে পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।’ আদালত সূত্রের খবর, মামলায় দীর্ঘ ২৫ বছরে একাধিক বিচারক বদলি হয়েছে। ৪‑৫জন সরকারি কৌঁসুলি পরিবর্তন হয়েছে। অবশেষে নানা আইনি বাঁধা কাটিয়ে এদিন নিষ্পত্তি হল মামলাটি।