নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের দুই বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, দরজা বন্ধ করে রেখেছি। শুক্রবার মেদিনীপুর শহরে রণ সংকল্প সভায় দাঁড়িয়ে এমনই দাবি করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মেদিনীপুরের কলেজ মাঠে এই সভাকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মী সমর্থকদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। জনসভায় মেদিনীপুর ছাড়াও ঝাড়গ্রাম, ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার প্রথম সারির নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন অভিষেক বলেন, আপনার জানেন, এই জেলায় ১৫টি আসনের মধ্যে বিজেপির দু’জন বিধায়ক আছেন। তাঁরা দু’জনই তৃণমূলে আসতে চেয়েছিলেন। আপনাদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে দরজা বন্ধ করে রেখেছি। ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাটের ইতিহাস এই এলাকার মানুষ জানে। শীতল কপাট কীভাবে সন্ত্রাস করেছেন, তা সকলের জানা। সিপিএমের হার্মাদরা এখন বিজেপির জহ্লাদ হয়েছে। কিন্তু, তৃণমূলের সম্পদ হবে না। আমরা যতদিন রয়েছি, এদের জন্য দরজা বন্ধ। অজিত মাইতির সঙ্গে বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় আমার অফিসে এসেছিলেন। তাঁকে আমরা নিইনি। আপনাদের দাবিকে মান্যতা দিয়েছি। কিন্তু, এবার খড়্গপুরে তৃণমূলকে জেতাতে হবে।
এব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য খড়্গপুরের বিধায়ক হিরণের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু, তিনি ফোন ধরেননি। তবে ঘাটালের বিধায়ক বলেন, এই দাবি একেবারে ভিত্তিহীন। আসলে তৃণমূলের কাছে ইস্যু নেই। তাই বাজার গরম করতে এমন দাবি করা হচ্ছে। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, আতঙ্কে এসব কথা বলছেন অভিষেক। ২০২৬ সালের পর তৃণমূল দলটাই আর থাকবে না। সবাই বিজেপিতে চলে আসবে।
এদিন জনসভায় দাঁড়িয়ে এসআইআর প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, বৈধভাবে ১০টার বেশি ফরম জমা দেওয়া যায় না। যেহেতু বিজেপি ফরম জমা দিতে পারেনি, তাই সময়সীমা বাড়াল নির্বাচন কমিশন। আর যদি কোনও বিজেপির নেতা ইআরও অফিসে ১০টির বেশি ফরম জমা দিতে আসেন, তবে রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে একটু ডিজে বাজিয়ে শুনিয়ে দেবেন।
অভিষেক বলেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রকে বারবার বলা হয়েছে। আমি ঘাটাল গিয়ে মানুষের কাছে কথা দিয়ে এসেছিলাম। ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে কাজ শেষ হবে। তবে এনিয়ে বিজেপি নেতারা ভুল বোঝাচ্ছেন। আবারও বলছি, কারও চাষের জমি নষ্ট হবে না। মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, এই বছর বর্ষার আগেই কাজ অনেকটা এগিয়ে যাবে।
হেলিকপ্টারে ওঠার আগে অভিষেক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ছোটবড় কোনও বিজেপি নেতা আইন বিরুদ্ধ কাজ করলে, তাঁদের বাড়ি ঘেরাও করবেন। আমাকে ডাকবেন, আমি আসব। এবার খড়্গপুর আমাদের চাই। মেদিনীপুর ও ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা ও অজিত মাইতি বলেন, এবছর ফাটাফাটি খেলা হবে। তারজন্য আমরা তৈরি।