নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: অন্যের চেকে সই নকল করে অ্যাকাউন্ট থেকে ছ’লক্ষ টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনায় এক ব্যাঙ্ক কর্মীকে গ্রেপ্তার করল তমলুক থানার পুলিস। ওই ঘটনায় ব্যাঙ্ক কর্মীর আরও এক সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতদের নাম কল্যাণ সামন্ত ও বলরাম সামন্ত। তাদের বাড়ি নন্দকুমার থানার মানুয়াখালি গ্রামে। বলরাম এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। নন্দকুমার থানার ভুঁইয়াখালি গ্রামের স্বপন দাসের মাছের ভেড়ি রয়েছে। তমলুক শহরে মানিকতলায় একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টে ছ’লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা ছিল। গত ২মার্চ স্বপনবাবু মোবাইলের এসএমএস চেক করে দেখেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ছ’লক্ষ টাকা তোলা হয়েছে। মেসেজ দেখেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঙ্কে যান ওই মাছ ব্যবসায়ী। সেখানে গিয়ে চেকের মাধ্যমে টাকা তোলার বিষয়টি জানার পর তমলুক থানার এফআইআর করেন। জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যাঙ্ককর্মী কল্যাণ সামন্ত পাঁচ বছর ধরে তমলুকের ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কে কাজ করেছেন। এক বছর আগে তাঁকে কাঁথি শাখায় বদলি করা হয়। ২০২১ সালে ৭ জানুয়ারি ধৃত ব্যাঙ্ক কর্মী স্বপন দাসের বাড়িতে গিয়ে একটি ফর্মপূরণ করেছিলেন। সেই সময় স্বপনবাবু যাবতীয় নথিপত্র টেবিলে রেখেছিলেন। আধার ও প্যান কার্ড খুঁজতে ঘরে ঢোকার সময় তাঁর চেক বই থেকে তিনটি পাতা ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছিল। তারপর চার বছর কেটে গিয়েছে। এতদিন বাদে সেই চেক ব্যবহার করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ছ’লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হবে কল্পনাও করতে পারেননি। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস ব্যাঙ্কের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে। যে মুহূর্তে কাউন্টার থেকে টানা তোলা হয়েছে সেই সময়ের ফুটেজ জোগাড় করা হয়। এছাড়াও ব্যাঙ্কের বাইরের ফুটেজ থেকে বাইকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর জোগাড় করা হয়। এভাবেই বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্মী কল্যাণ সামন্ত ও তাঁর সঙ্গী বলরাম সামন্তকে শনাক্ত করা হয়। তিনদিন আগে দু’জনকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত দু’জন জেল হেফাজতে রয়েছে। স্বপনবাবু বলেন, আমি ওই ব্যাঙ্কে নির্দিষ্ট একজন কর্মীর কাছে যাবতীয় কাজ করতাম। টাকা খোয়া যাওয়ার পর সেই কর্মীকেই সন্দেহ করেছিলাম। যদিও ওই কর্মী এখন অন্য ব্যাঙ্কে বদলি হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু, পুলিসি তদন্তে জানা যায়, অন্য ঘটনা। ২০২১ সালে জানুয়ারি মাসে ধৃত ব্যাঙ্ক কর্মী আমার বাড়িতে এসে ফর্ম ফিলআপ করার সময় নজর এড়িয়ে চেকবইয়ের তিনটি পাতা ছিঁড়ে নিয়েছিলেন। এতদিন বাদে সেই চেক ব্যবহার করে টাকা তুলে নিয়েছে। কিন্তু, আমার সই কীভাবে নকল করল সেটা বলতে পারব না। ব্যাঙ্কে বিষয়টি কেন ধরা পড়ল না সেটাও আশ্চর্যজনক। তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ বলেন, ওই ঘটনায় বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্মী এবং ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



