Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চোরাই টোটোর চেসিস নম্বর বদলে বিক্রির চক্র, ধৃত ২

টোটো চুরি করে চেসিস নম্বর ও মোটর নম্বর বদলে বিক্রির চক্রের খোঁজ পেল পাঁচলা থানা। বাঁকড়া এলাকায় এই বদলের কাজ করা হতো।

চোরাই টোটোর চেসিস নম্বর বদলে বিক্রির চক্র, ধৃত ২
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  টোটো চুরি করে চেসিস নম্বর ও মোটর নম্বর বদলে বিক্রির চক্রের খোঁজ পেল পাঁচলা থানা। বাঁকড়া এলাকায় এই বদলের কাজ করা হতো। এরপর টোটো হাওড়া সহ বিভিন্ন জেলায় চলে যেত বলে অভিযোগ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বুধবার শেখ শাহিল ও শেখ আরমান নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে একটি টোটো। কোথা থেকে তারা টোটো চুরি করত এবং  আর কারা জড়িত রয়েছে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চলছে।

Advertisement

হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার পাঁচলার বাসিন্দা মনোরঞ্জন রায় থানায় অভিযোগ করেন, তাঁর টোটো চুরি হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর টোটোটি চুরি যায়। পাঁচলা থানা চুরির কেস রুজু করে তদন্তে নামে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে দেখা যায়, দু’জন একটি টোটো নিয়ে যাচ্ছে। সোর্স কাজে লাগিয়ে জানা যায়, তারা বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা টোটোর লক ভেঙে চুরি করে বেড়ায়। অভিযুক্তদের একজন বাঁকড়া, অন্যজন দাশনগরের বাসিন্দা। পাঁচলা থানার ওসি শুভাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার রাতেই ওই এলাকায় তল্লাশির জন্য পাঠান সাব ইনসপেক্টর বাপি ঘোষ ও এএসআই শ্রীমন্ত পান্ডেকে। তাঁরা তল্লাশি চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করেন। অভিযোগ হওয়ার মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার হয় টোটো। অভিযুক্তদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তারা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর করে বেড়ায়, কোথায় টোটো রয়েছে। সেইমতো সেখানে হানা দিয়ে টোটো নিয়ে উধাও হয়ে যায়। এরপর বাঁকড়ায় নিয়ে এসে বদল করা হয় চেসিস নম্বর। যাতে বিক্রির পর ধরা পড়঩লেও জানা না যায় সেটি চুরি করা টোটো। তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, টোটো কোন কোম্পানির কাছ থেকে কেনা যাবে তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কারখানায় তৈরি হওয়ায় টোটোর চেসিস নম্বর রয়েছে।  কিন্তু এই কোম্পানি ছাড়াও হাওড়া শহরের একাধিক জায়গায় সরকারি গাইড লাইন অমান্য করে বেআইনিভাবে টোটো তৈরির একাধিক কারখানা গজিয়ে উঠেছে। সেখানেই চোরাই টোটোগুলির চেসিস ও মোটর নম্বর বদল চলছে। সামান্য মেরামত করার পর এখানেই রং পাল্টে সেগুলি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। এই কাজ করাচ্ছে অভিযুক্তরা। চক্র গড়ে চোরাই টোটো কেনাবেচার কাজ চলছে। ধৃতদের মাধ্যমে কতগুলি টোটো বিক্রি হয়েছে, সেই তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

সম্পর্কিত সংবাদ