Bartaman Logo
১৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালানের মূল পান্ডা সহ বনগাঁয় গ্রেপ্তার ২

আন্তর্জাতিক অস্ত্র কারবারের মূল পান্ডাসহ দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করল বনগাঁ থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম শাহিদুল মণ্ডল ওরফে শরিফ (৩৮) ও অনুপ খান (৩০)।

আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালানের  মূল পান্ডা সহ বনগাঁয় গ্রেপ্তার ২
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: আন্তর্জাতিক অস্ত্র কারবারের মূল পান্ডাসহ দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করল বনগাঁ থানার পুলিশ। ধৃতদের নাম শাহিদুল মণ্ডল ওরফে শরিফ (৩৮) ও অনুপ খান (৩০)। শাহিদুল বনগাঁ থানার বাজিতলার বাসিন্দা। অনুপের বাড়ি ফুলতলা কলোনি। 

Advertisement

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার গভীর রাতে বাজিতলায় শাহিদুল মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। একটি ৯ এমএম পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানতে পারে, শাহিদুল দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃরাষ্ট্র অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত। ধৃতকে জেরা করে ফুলতলার বাসিন্দা অনুপের খোঁজ পায় পুলিশ। এরপর অনুপকে গ্রেপ্তার করে বনগাঁ থানার পুলিশ। পুলিশের দাবি, ধৃত অনুপ জেরায় স্বীকার করেছে শাহিদুলের কাছ থেকে সে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছিল। পুলিশের অনুমান, সেগুলি বাংলাদেশে বিক্রি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক দুজনকে ১২ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।
এবিষয়ে বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত বলেন, ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র কারবারের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশে অস্ত্র পাচার করত। সীমান্তবর্তী বনগাঁ শহরে বেআইনি অস্ত্র কারবার নতুন কোনো ঘটনা নয়। চক্রের মাধ্যমে এই কারবার চালানো হয়। বাংলাদেশে দুষ্কৃতীদের কাছে অস্ত্রের চাহিদা থাকায় অল্প দিনে কারবার ফুলেফেঁপে উঠত। জানা গিয়েছে, শাহিদুল দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র চোরাচালানে যুক্ত। বাইরে থেকে অস্ত্র এনে নিজের কাছে মজুত করত। কারবারের লিংক ম্যান হিসাবে নিযুক্ত সদস্যরা চাহিদা মতো অস্ত্র ক্রেতার হাতে পৌঁছে দিত বলে সূত্রের খবর। অনুপ দীর্ঘদিন ধরেই লিংক ম্যান হিসাবে কাজ করত। মূলত ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত সে। আগেও একাধিকবার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বহু বছর আগে পেট্রাপোল সীমান্তে অনুপের বাবার একটি চায়ের দোকান ছিল। সেই দোকানের আড়ালে ইয়াবা ট্যাবলেট ও নানা মাদক দ্রব্যের ব্যবসা চলত। মূলত বাংলাদেশিরা এই দোকানে ভিড় জমাত। সেখান থেকেই বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। সূত্রের দাবি, বেশ কয়েক বছর আগে বরানগরের এক বাসিন্দার সঙ্গে বিদেশে যান অনুপ ও তাঁর বাবা। অভিযোগ, বিদেশে তাঁদের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তির রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হলে বাবা ছেলে দেশে ফিরে আসে। এরপর থেকেই অস্ত্র কারবারে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পরে অনুপ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ