শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: বিদেশের সোনার খনি থেকে বাট এনেছে তারা কলকাতা বন্দরে। সরাসরি খনি মালিকদের কাছ থেকেই তারা কিনেছে সেসব। তাই অর্ধেকের চেয়ে কম দামেই বিক্রি করেছে। প্রচুর স্টক রয়েছে। টেস্টিং সার্টিফিকেট পর্যন্ত রয়েছে। তাই সোনা কিনে ঠকে যাওয়ার কোনও ভয় নেই। মিডলম্যান ছেড়ে রেখে বিভিন্ন জায়গায় এই খবর ভাসিয়ে দিত জালিয়াতরা। কেউ টোপ গিললেই তাকে ডেকে পাঠানো হতো। নিজেদের ‘ব্যবসায়ী’ পরিচয় দেওয়া প্রতারকরা সেখানে হাজির হয়ে নকল সোনা দিয়ে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যেত। কলকাতা ও তার লাগোয়া এলাকায় এভাবে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের ফাঁদে ফেলে চলছিল প্রতারণা। এই চক্রের দুই পান্ডাকে শনিবার গভীর রাতে গ্রেফতার করল বিষ্ণুপুর থানা।
পুলিশ সূত্রের খবর, বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা নীলাদ্রি সরকার নামে এক ব্যক্তিকে এলাকারই বাসিন্দা ধনা মণ্ডল জানান, কম দামে সোনার বাট পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি গিনি পর্যন্ত মিলবে। বন্দর থেকে এগুলি আসছে। তবে চোরাপথে এই সোনার বাট আসেনি। কেনাবেচার সমস্ত নথিও রয়েছে। তাই চোরাই সোনা ভেবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আর সঙ্গে সার্টিফিকেটও থাকছে।
ওই ব্যক্তি যে আসলে সোনা বিক্রির টোপ দিয়ে টাকা হাতানো গ্যাংয়ের এজেন্ট বুঝতে পারেননি নীলাদ্রি। এই নিয়ে বেশ কয়েকবার ফোনে কথা হয় দু’জনের। তার কথা বিশ্বাস করে সোনা কিনতে রাজি হন অভিযোগকারী। তাঁকে বলা হয়, পাঁচ লক্ষ টাকার সোনা দেওয়া হবে, যার বাজারদর ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা। বিদেশের খনি থেকে সরাসরি কেনায় তারা এত কম দামে সোনা দিতে পারছে। খনি মালিকদের সঙ্গে তাদের সরাসরি যোগ রয়েছে। সেইমতো অভিযোগকারীকে বিষ্ণুপুর এলাকায় আসতে বলা হয়।
শনিবার বিকেলে তিনি সেখানে এক লক্ষ টাকা নিয়ে হাজির হন। কিছুক্ষণ পর গাড়ি করে চারজন হাজির হয়। গাড়ি থেকে নেমে একজন সোনার বাট দেখায়। অন্য একজন টাকা গুনবে বলে নগদ ভরতি ব্যাগটি চেয়ে নেয়। প্রতারকরা ক্রেতার হাতে সোনার বাট ভরতি ব্যাগ দিতেই তিনি বুঝতে পারেন সেটা নকল সোনা। তিনি টেস্ট করানোর কথা বললে তাতে রাজি হয়নি অভিযুক্তরা। নীলাদ্রির টাকা ভরতি ব্যাগ গাড়িতে নিয়েই উধাও হয়ে যায় ওই যুবকরা। তিনি বিষ্ণুপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান এবং পুলিশ একটি জালিয়াতি প্রতারণার কেস রুজু করে।
তদন্তে নেমে পুলিশ নীলাদ্রির কললিস্ট ঘেঁটে জানতে পারেন, মোবাইলে ধনা নামে একজনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। সে বিষ্ণুপুর এলাকারই বাসিন্দা। রাতেই তাকে এলাকা থেকে ধরা হয়। ধৃতকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, সে আসলে মিডলম্যান। গ্যাংয়ের অন্যতম বড়ো মাথা হল সুপ্রিয় সরকার নামে অন্য একজন। তাকে গভীর রাতে বিষ্ণুপুর থেকে গ্রেফতার করে থানা। তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তাদের একটি গ্যাং রয়েছে। তারা কলকাতা ও তার লাগোয়া জেলায় কম দামে সোনার বাট বিক্রি করবে। মিডলম্যানদের মাধ্যমে তারা একথা ছড়িয়ে দিচ্ছে স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা অন্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে। সেই টোপ কেউ গিললেই গাড়ি করে এসে তাঁর হাতে নকল সোনা হাতে ধরিয়ে মোটা টাকা হাতিয়ে সে পালাত। এই
কায়দায় একাধিক ব্যক্তিকে ঠকিয়েছে এই চক্র। গ্যাংয়ের বাকি সদস্যদের খুঁজছে পুলিশ।