নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ফেসবুকের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। সেখানে উচ্চ রিটার্নের টোপ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ প্রফিট! সেই টোপ গিলে প্রায় ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেছিলেন সল্টলেকের এক বাসিন্দা। কিন্তু, টাকা তুলতে গেলে তাঁকে বলা হয়, ট্যাক্স বাকি রয়েছে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা। রিটার্ন তো দূরের কথা, তিনি বিনিয়োগ করা মূলধন ফিরে পাননি। তারপর বুঝতে পারেন, প্রতারিত হয়েছেন। এ ব্যাপারে প্রতারিত ব্যক্তি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই ঘটনার তদন্তে পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম দাভেস লাল ওরফে রাহুল এবং অনীশকুমার রাই। রাহুলের বাড়ি দিল্লির রামনগরে এবং অনীশের বাড়ি হুগলির উত্তরপাড়ায়। প্রতারিত ব্যক্তির বাড়ি সল্টলেকের এফডি ব্লকে। তিনি ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ওই ব্যক্তি ফেসবুকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ দেখেছিলেন। সেখানে যুক্ত হন। তারপর তাঁকে উচ্চ রিটার্নের নানা টোপ দেওয়া হয়। প্রতিদিন ভালো প্রফিটের অফার পেয়ে তিনি বিনিয়োগ করতে শুরু করে দেন। কয়েক দফায় তিনি ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেন। প্রতারকদের কথায় তিনি একটি ভুয়ো ট্রেডিং অ্যাপও ডাউনলোড করেছিলেন। সেখানে বিনিয়োগ করা টাকা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে।
তারপর তিনি রিটার্ন সহ সমস্ত টাকা তুলতে গিয়ে দেখেন, কিছুতেই তুলতে পারছেন না। তাঁকে বলা হয়, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। কারণ, তিনি নাকি প্রতিমাসে ট্যাক্স জমা দেননি। ওই ট্যাক্সের টাকা পেমেন্ট করলে তিনি তুলতে পারবেন। ট্যাক্স বাবদ তাঁকে ৭৫ লক্ষ টাকা দিতে বলা হয়। তারপর তিনি বুঝতে পারেন, প্রতারকদের হাতে পড়েছেন। পুলিশ তদন্তে নেমে ওই দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। এই চক্রে যুক্ত বাকিদের খোঁজ চলছে।