নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: নিজেদের বাড়ি থাকলেও একজন রাত কাটাত স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে, অন্যজন শুতে যেত হাসপাতালের বিশ্রামাগারে। পাছে পুলিস তাদের ধরতে না পারে। আসলে দু’জনেরই পেশা চুরি করা। দিনের বেলা এদিক-ওদিক ঘুরে চুরি-চামারি করে তারা যে যার বাড়িতে যেত কিছু সময়ের জন্য। চোরাই মালের বিক্রিবাটা সেরে ঘাপটি মেরে পড়ে থাকত স্টেশন ও হাসপাতালে। কিন্তু এত ফন্দি করেও শেষরক্ষা হল না। মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস চুরির অভিযোগে তাদের পাকড়াও করেছে। ধৃতদের নাম সুদীপ্ত দে ওরফে কানাই ও কৃষ্ণ মজুমদার।
জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের উত্তর বীরেশপল্লি, রবীন্দ্রনগর, বিধানপল্লির একাধিক বাড়ি ও একটি আইসিডিএস সেন্টারের গেটের তালা ভেঙে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত নেমে পুলিস চুরি যাওয়া চারটি গ্যাসের সিলিন্ডার উদ্ধার করে। প্রতিটি চুরির সঙ্গেই যুক্ত ছিল সুদীপ্ত দে ওরফে কানাই। পুলিসের দাবি, রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার চুরি করে তা চড়া দামে বিক্রি করত কানাই। পুলিসের চোখকে ফাঁকি দিতে সে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে না থেকে বিভিন্ন হাসপাতালের বিশ্রামাগারে রোগীর পরিজন সেজে রাত কাটাত। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে, গরমের হাত থেকে বাঁচতে বহু বাড়িতেই এখন এসি মেশিন বসনো রয়েছে। সেই এসি মেশিনের তামার তার চুরি করাই ছিল কৃষ্ণ মজুমদারের কাজ। সম্প্রতি বারাসত ও মধ্যমগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় এসির দামি তামার তার চুরির অভিযোগ উঠেছিল। তদন্তে নেমে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস কৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস জানিয়েছে, গ্রেপ্তারি এড়াতে কৃষ্ণও নিজের বাড়িতে থাকত না। রাতে ঘুমত বিভিন্ন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, মধ্যমগ্রামের দুই বাসিন্দা চার লক্ষ টাকা সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে ওটিপি শেয়ার করেছিলেন তাঁরা। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিস একজনকে ৫২ হাজার টাকা, অন্যজনকে ১ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকার ফিরিয়ে দিয়েছে।