গড়াপেটা ময়দানের পুরোনো রোগ। চোখের পলকে বদলে যায় সমীকরণ। বটতলার আলো-আঁধারিতে ফিসফাস। পয়েন্ট দেওয়া-নেওয়ার খেলা দানা বাঁধে। মোবাইল ফোন কিংবা নেটযুগের আগেও নিখুঁত অঙ্কে চলত অপারেশন। কেমন ছিল সেসব দিন? এই নিয়েই শুরু হল বর্তমানের অন্তর্তদন্ত।
গড়াপেটা ময়দানের পুরোনো রোগ। চোখের পলকে বদলে যায় সমীকরণ। বটতলার আলো-আঁধারিতে ফিসফাস। পয়েন্ট দেওয়া-নেওয়ার খেলা দানা বাঁধে। মোবাইল ফোন কিংবা নেটযুগের আগেও নিখুঁত অঙ্কে চলত অপারেশন। কেমন ছিল সেসব দিন? এই নিয়েই শুরু হল বর্তমানের অন্তর্তদন্ত।
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তালতলা মাঠ থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে টাউন ক্লাব। কিন্তু হেঁটে যাওয়ার সময় নেই। ট্যাঙ্কে তেল কানায় কানায় ভরে বটতলায় দাঁড়িয়ে দুধসাদা অ্যাম্বাস্যাডর। হাতঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে দ্রুত পায়ে গাড়িতে উঠলেন দুঁদে ফুটবল কর্তা। বৃষ্টিভেজা ময়দানি দুপুর পরবর্তী নাটকের জন্য প্রস্তুত।
১৯৮৩’র পয়লা আগস্ট। ময়দান জুড়ে তিরতিরে উত্তেজনা। ঘরোয়া লিগের তৃতীয় ডিভিশনে রেলিগেশন ম্যাচ। নামবে কারা? তা নিয়েই চোরা টেনশন। তালতলা মাঠে ইন্টারন্যাশনালের মুখোমুখি যুগশান্তি। অন্যদিকে টাউন মাঠে ইন্ডিয়ান বয়েজ অ্যাথলেটিক ক্লাবের (আইবিএসি) সামনে ভিক্টোরিয়া। ১৫ ম্যাচে ইন্টারন্যাশনাল ও আইবিএসসি’র সংগ্রহ মাত্র ১১ পয়েন্ট। অর্থাৎ, তৃতীয় ডিভিসনে টিকে থাকতে গেলে জেতার পাশাপাশি গোলপার্থক্যও বড় ফ্যাক্টর। ব্যাস! গড়াপেটার মঞ্চ তৈরি। গোলের হিসাব রাখতে সাদা অ্যাম্বাস্যাডারে চড়ে চরকিপাক খেলেন শ্রীরামপুরের এক কর্তা।
পাঠক, গড়ের মাঠে কলঙ্কিত অধ্যায় শুরু। ইন্টারন্যাশনাল ৮০-০ গোলে হারায় যুগশান্তিকে। অন্যদিকে, আইবিএসসি আরও এককাঠি এগিয়ে। ১১৪-০ গোলে পরাস্ত করে ভিক্টোরিয়াকে। দুই ম্যাচে ১৯৪ গোল! শোনা যায়, কোনও মাঠে গোল হলেই রিলে সিস্টেমে ফল পৌঁছে যাচ্ছিল অন্য মাঠে। তালতলা মাঠে নির্ধারিত সময়ের ৩৫ মিনিট পর ম্যাচ শুরু করেন রেফারি হরিপদ দাস। খবর পেতেই টাউন মাঠে তুলকালাম। চূড়ান্ত ঝামেলার জেরে প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে খেলা। একটা সময় ভিক্টোরিয়ার ফুটবলাররা নিজেরাই নিজেদের জাল কাঁপালেন। অসহায় রেফারি নিছকই দর্শক। একরাশ লজ্জা নিয়ে অস্ত গেলেন সূর্যদেব।
পরদিন ঢিঢি কাণ্ড। ফুটবল মাঠে তোলপাড়। রাতারাতি বেপাত্তা দু’দলের অধিকাংশ ফুটবলার। অজয় বসু, পরিতোষ চক্রবর্তী, চণ্ডীচরণ দাসকে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে আইএফএ। চারটি দল সহ ৪৬ জন ফুটবলারের নির্বাসনের দাবি জানায় সেই কমিটি। এখানেই শেষ নয়। আরও আছে। তখন ভিক্টোরিয়ার অন্যতম কর্তা রঞ্জিত গুপ্ত। পরবর্তীতে আইএফএ সচিবও হন তিনি। তাঁর অমর উক্তি ছিল, ‘গড়াপেটা এক্সপোজ করতেই ১১৪ গোল হজম করেছিল ভিক্টোরিয়া।’ পাঠক, এরই নাম ময়দান। যেখানে কখনও কোনওকিছুই স্ট্যাটিক নয়।