Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১৯০ বছর আগে লালবাজারে নালিশ গোরা সিপাইয়ের স্ত্রীর নুনের ওজন কম! ১০ টাকা জরিমানা বিক্রেতার

১৮৩৫ সালে এক গোরা সিপাইয়ের স্ত্রী টেরিটি বাজারে গিয়েছিলেন নুন কিনতে।

১৯০ বছর আগে লালবাজারে নালিশ গোরা সিপাইয়ের স্ত্রীর নুনের ওজন কম! ১০ টাকা জরিমানা বিক্রেতার
  • ৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আচ্ছা, এখন ওজনে কম দিলে কি কোনও ক্রেতা থানায় ছুটবেন? মামলা হবে? দোকানদার দোষী সাব্যস্ত হলে কি জরিমানা হবে বা সশ্রম কারাদণ্ড? সেকালে কিন্তু তেমনই হতো।

Advertisement

১৮৩৫ সালে এক গোরা সিপাইয়ের স্ত্রী টেরিটি বাজারে গিয়েছিলেন নুন কিনতে। দোকানের মালিক রামকৃষ্ণ দে। কিনে বাড়ি ফিরলেন মহিলা। মালপত্র নামানোর পর মনে হল, নুনের পরিমাণ তো ঠিক লাগছে না। দোকানদার নিশ্চয় ওজনে মেরেছে। এক নেটিভ ব্যবসায়ীর এত সাহস! গোরা সিপাইয়ের স্ত্রী সোজা হাঁটা দিলেন লালবাজার থানার দিকে। ঠুকে দিলেন নালিশ।
১৮৩৫ সালে ২৬ ডিসেম্বর ‘সমাচার দর্পন’ পত্রিকা এই খবরটি প্রকাশ করে। লালবাজারে অভিযোগ দায়ের হয় ২১ ডিসেম্বর। সাদা চামড়ার সিপাইয়ের স্ত্রী নেটিভের দুঃসাহসের বর্ণনা দিলেন লালবাজারের কর্তাদের কাছে। নুন ফের ওজন হল। বাস্তবিকই দেখা গেল, পরিমাণ কম। ডাকা হল রামকৃষ্ণ দে’কে। তিনি দোকানের সমস্ত বাটখারা নিয়ে হাজির হলেন লালবাজার। গোরা সিপাইয়ের স্ত্রী একটি বাটখারা দেখে লাফিয়ে উঠলেন। কিন্তু বেঁকে বসলেন রামকৃষ্ণ। বললেন, এই বাটখারা দিয়ে ওজন করাই হয়নি।  মহিলা তবুও স্পষ্ট ভাষায় বললেন, আমার কেনা নুন কোন বাটখারায় ওজন করা হয়েছে, তা আমি জানি না? ইয়ার্কি হচ্ছে। তবে রামকৃষ্ণ নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। ১৮৩৫ সালে ২১ ডিসেম্বর পড়েছিল সোমবার। প্রধান ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রামকৃষ্ণ দে’র নামে এদিনই অভিযোগ দায়ের করলেন মহিলা। মামলা উঠল। আসামি ও অভিযোগকারী দু’পক্ষই নিজের সমর্থনে সওয়াল-জবাব চালালেন। শেষে দোষী সাব্যস্ত হলেন নুন ব্যবসায়ী রামকৃষ্ণ।
সেকালে শাস্তির বহর কম ছিল না। নেটিভদের জন্য তো কম নয়ই। ১৯০ বছর আগে নুন ওজনে কম দেওয়ার অপরাধে রামকৃষ্ণের হল মোটা জরিমানা। তখনকার দিনে ১০ টাকা কম নয়। গুনেগুনে ১০ টাকা জরিমানার আদেশ হল নুন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। তা দিতে অস্বীকার করলে সশ্রম কারাদণ্ড। হরিণবাটি নামের একটি জায়গায় টানা ২০দিন পরিশ্রমযুক্ত কয়েদের হুকুম দিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। 
উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হল, পাঁচ দিনের মাথাতেই ফয়সালা হয়েছিল মামলাটির। বর্তমান এই তারিখ পে তারিখের সময় হলে এরকম মামলার নিষ্পত্তিতে যে কত মাস বা বছর কেটে যেত তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। বর্তমান সময় ব্যবসায়ীর কাছে ঠকলে সাধারণ মানুষ ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হন। সেকালে নেটিভদের ধরতে গোরারা ছুটতেন লালবাজার।  ব্রিটিশ আমলে লালবাজার। ছবি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লেখ্যাগারের সৌজন্যে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ